![]()


খলিলুর রহমান, বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার দক্ষিণ পানিধার এলাকায় নিকড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ৪০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। এতে এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিশেষ করে এতিমখানা, মাদরাসা, স্কুলগামী শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচল হয়ে পড়েছে বিপজ্জনক ও দুর্বিষহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে নিকড়ি ছড়ায় সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ পানিধারের সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছড়ার পার্শ্ববর্তী রাস্তার ভাঙন এখনো মেরামত না হওয়ায় ০৬ নং ওয়ার্ডের কয়েকশ পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় আব্দুল হামিদ জানান, “এই রাস্তাটি দিয়ে দুটি মসজিদ, একটি এতিমখানা ও শতাধিক পরিবার চলাচল করে। শিশুরা মাদরাসা ও স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।”
পানিধার হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) হিফজ মাদরাসার শিক্ষক বলেন, “ভাঙা রাস্তা দিয়ে আসতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে। অনেকে এখন আর সন্তানকে মাদরাসায় পাঠাতে চায় না।”
স্থানীয়রা কোনোভাবে ব্যাগিং মাটি ও পুরনো আসবাব ফেলে চলাচলের পথ তৈরি করেছে। পাশাপাশি ছড়ার পানি ঠেকাতে বাঁশ পুঁতে সাময়িক সীমানা নির্ধারণ করেছে তারা।
গ্রামবাসী মো. হোসাইন বলেন, “এই রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধের উপক্রম। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, “অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে যে কষ্ট হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
এ অবস্থায় ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক শাহরিয়ার ফাহিম এলাকাবাসীর পক্ষে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন। তিনি জানান, “রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবজিৎ চন্দ্র দাস জানান, “সড়কটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রথমে গার্ডওয়াল নির্মাণ করে পরে মূল রাস্তার কাজ করতে হবে। তবে আপাতত মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা যেতে পারে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর আবেদন পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার না হলে দুর্ঘটনা বাড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হবে।