![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পূর্ব-হাতলিয়া গ্রামে পাঁচ প্রবাসী পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে দুই দিক বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জাসিম আহমদ, তার বাবা আব্দুল মুহিত ও মুহিবুর রহমান। এই ঘটনার ফলে তিন দিন ধরে পাঁচ প্রবাসী পরিবারের অর্ধশতাধিক সদস্য অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
বাঁধা দেওয়ার সময় প্রবাসী আবির আহমদের বাবা আব্দুল ওহাবকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস ফেরত আব্দুল ওহাব, আব্দুল বাছিত, আব্দুল গনি এবং আব্দুল রব্বানির পরিবারের সদস্যরা গত ৬০ বছর ধরে একটি রেকর্ডিয় রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। এটি তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। তবে প্রতিবেশী জাসিম আহমদ ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
২০২১ সালে প্রবাসী আব্দুল ওহাব এ বিষয়ে বড়লেখা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা (নং-১৩/২১) দাখিল করেন, যা এখনও বিচারাধীন। এরই মধ্যে, গত ১১ জানুয়ারি, জাসিম আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন রাস্তাটির দুই পাশে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
এতে পাঁচ পরিবারের সদস্যরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। এমনকি একটি পরিবারের পোল্ট্রি ফার্মে মোরগের খাবার সরবরাহ করাও বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা অবিলম্বে রাস্তায় দেওয়া প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি।
থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল মুহিত ও মুহিবুর রহমান জানান, তারা আদালতের রায় পেয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই রাস্তা বন্ধ করেছেন। তবে তারা কোনো রায় সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাছিম আহমদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এখন পর্যন্ত রাস্তা খোলা না হওয়ায় পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও রাস্তাটি পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না ঘটে।