সর্বশেষ আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

স্বাবলম্বী হয়ে সরকারি উপহারের ঘর ফিরিয়ে দিলেন জমির

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ভূমিহীনদের ঘর ও জমি দেওয়া হয়। ভূমিহীন হওয়ায় সেই ঘর পেয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজে’লার জমির উদ্দীন।

কিন্তু এখন স্বাবলম্বী হওয়ায় সেই জমিসহ সেই ঘর ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এলাকার অন্য দরিদ্র-অসহায় মানুষকে দেওয়ার জন্য সেই ঘর ও জমির দলিল বুঝিয়ে দিয়েছেন উপজে’লা প্রশাসনের কাছে।

উপজে’লার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মৃ’ত খোদা বক্সের ছে’লে জমির উদ্দিন বিশ্বা’স (২৮)। এক মে’য়ে ও স্ত্রী’ নিয়ে তার পরিবার। জানান, পেশায় তিনি ছিলেন একজন দিনমজুর। সারাদিনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোনো রকমে চলছিল সংসার। তবে ভূমিহীন হওয়ায় ঠাঁই হয় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া শাহপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এতে কিছুটা আর্থিক ক’ষ্ট লাঘব হয়। মা’থা গোজার ঠাঁই হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কলা কিনে তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করছেন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ফলে পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন ভালোই আছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহপুর গ্রামে ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি আদর্শ আশ্রয়ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়া ঘর পেয়েছেন ভূমিহীনরা। প্রকল্পে রয়েছে শি’শুদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ, পরিবেশের ভা’রসাম্য রক্ষার্থে ফলজ ও বনজ গাছ, বসত ভিটায় সবজি চাষ। বাড়তি আয়ের জন্য গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন করছেন সুবিধাভোগীরা।

উপজে’লা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে জীবননগর উপজে’লায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৮টি ঘর উদ্বোধন করেন। ভূমিহীন দিনমজুর জমির উদ্দিন আন্দলবাড়িয়া আশ্রয় প্রকল্পে উপহারের বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি এখন স্বাবলম্বী। তাই স্ত্রী’ আফরোজা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার (ইউএনও) কাছে হাজির হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের বসত ঘর ও জমির দলিল জমা দেন জমির উদ্দীন।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার সময় জীবননগরের ইউএনও আরিফুল ইস’লাম, উপজে’লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হু’মায়ন কবির, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইস’লাম মোক্তার জমির উদ্দিনের বাড়িতে হাজির হন এবং তার সঙ্গে কথা বলেন। ঘর ও জমি ফিরিয়ে দেওয়ার পর জমির উদ্দিন বলেন, এক সময় আমা’র কিছুই ছিল না। নিজের মা’থা গোঁজারও ঠাই ছিল না। ছিল না এক শতকও জমি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মা’থা গোঁজার জন্য ঘর ও জমি দিয়েছিলেন। সেখানে থেকেই আমি কলার ব্যবসা শুরু করি।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমি স্বাবলম্বী। এখন নিজের আয় করা টাকায় জমি কিনে ঘর তৈরি করেছি। আমা’র তো এখন নিজের মা’থা গোঁজার ঠাই হয়েছে। সমাজে আমি ছাড়া এখনও অনেক দরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তি আছে; এই ঘরটা আমি তাদের দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, তাই আমি স্বাবলম্বী। আমি নিজের টাকায় জমি ও ঘর তৈরি করে ফেলেছি। এখন এই ঘর ও জমি আমা’র আর প্রয়োজন নেই। তাই আমি চাই এই ঘরটা অন্য কোন দরিদ্র মানুষ পাক।

আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্রয়স্থল দিয়েছেন। আগে আমাদের খুব খা’রাপ দিন গেছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা হয়েছে, সেই সঙ্গে সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য আয়ের সুযোগও হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

ইউএনও আরিফুল ইস’লাম বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্ন, দেশে যাতে কেউ গৃহহীন না থাকেন সে জন্য তিনি ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের জমি এবং ঘর প্রদান করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় জীবননগর উপজে’লার শাহপুর গ্রামের দিনমজুর জমির উদ্দিনকে একটি ঘর দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘরে বসবাস করে নিজে পরিশ্রম করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। বর্তমানে তিনি অন্যত্র কিনে ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। এ কারণে অন্য কোনো ভূমি ও গৃহহীন ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য নিজে লিখিত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জমি ও ঘর প্রমাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: