সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

এক বিবৃতিতে যেভাবে পাল্টে যায় বরিশালের পরিস্থিতি

বরিশাল নগরীর ইউএনওর বাসভবনে হা’মলা ও সং’ঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিটি মেয়রকে প্রথমে গ্রে’প্তার, পরে বরখাস্ত করা হবে—সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে এই পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে কঠোর ভাষায় একটি বিবৃতি প্রকাশের পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিবৃতিতে মেয়রকে ‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত’ উল্লেখ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলও। এখন সেই বিবৃতিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ সারা দেশের মাঠ প্রশাসনের সর্বত্র আক্ষেপের সুর শোনা যাচ্ছে। গতকাল রবিবার রাত ১২টার দিকে সব শেষ খবরে জানা গেছে, গতকাল রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

গতকাল আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার নিয়ে নিয়মিত মাসিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদসচিবের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনারদের বাইরে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সরকার, জননিরাপত্তা বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসচিবসহ কয়েকজন সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশালের ঘটনার পর বিবৃতির ঘটনাটি ওই বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কেউ কেউ বিবৃতির ভাষা কড়া হলেও তা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজন ছিল বলেও মত প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, ওই রকম ভাষায় বিবৃতিটি না দিলেই বরং প্রশাসনের জন্য ভালো হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই বিবৃতির ভাষার বিষয়ে দুই দিন রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে সমালোচনামূলক কোনো মন্তব্য না এলেও গতকাল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিবৃতিটি ‘চটজলদি হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন। আর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইস’লাম আশা প্রকাশ করেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে, দ্রুতই এটা মিটে যাবে।

কমিশনারদের বৈঠক শেষে সিনিয়র সচিবরা মন্ত্রিপরিষদসচিবের পক্ষেও কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মক’র্তার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মক’র্তা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ইউএনওর ওপর হা’মলা কোনো ব্যক্তি বা অফিসারের ওপর হা’মলা নয়, এটা সরকারের ওপর হা’মলা। হা’মলার ঘটনার ভিডিও থাকায় সেটার গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত। তাই এ বিষয়ের আগে থেকেই সরকারপ্রধান মেয়রের বিষয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁকে গ্রে’প্তারের পর বরখাস্ত করা হবে, তাও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশনেরর পক্ষ থেকে বিবৃতিটি প্রকাশ হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। যা পুরো ঘটনাকে প্রশাসনের বিপক্ষে নিয়ে গেছে।

গতকাল দিনভর সচিবালয়ে একাধিক কর্মক’র্তার সঙ্গে কথা বললে তাঁরাও বিবৃতির কারণে ঘটনার বল রাজনৈতিক পক্ষের ঘরে চলে গেছে বলে মনে করেন তাঁরা। জনপ্রশাসনের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, বরিশালের ঘটনার পর থেকে সদ্য সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত ইউএনওর পক্ষ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পুরো বিষয়টিই অফিসারের পক্ষে ছিল; কিন্তু ওই ভাষায় বিবৃতি দেওয়ার কারণে সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গতকালের কমিশনার বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা উঠলে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেছেন, এই বিবৃতি সংগঠনের বৈঠকের পর গেছে। তাই এটা কারো ব্যক্তিগত বিবৃতি নয়, সংগঠনের বিবৃতি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, বরিশালে অন্য অনেক বিষয়েই মেয়রের ওপর সরকারের শীর্ষ পর্যায় ক্ষুব্ধ ছিল। এই ঘটনা সেটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মক’র্তারা ও রকম ভাষায় বিবৃতি না দিলেই পারতেন।

গতকালের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মক’র্তাদের বৈঠকে বরিশালের ঘটনায় তাঁদের বিবৃতিগত অবস্থান থেকে পেছানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। তবে সরকারের প্রধানের পক্ষ থেকে কোনো নিদের্শনা এলেই শুধু তাঁরা সেটা বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে মাঠ প্রশাসনের জুনিয়র কর্মক’র্তাদের কার্যক্রমে পরিপক্বতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ কারণে ইউএনও পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করা হচ্ছে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসনসচিব বৈঠকে জানান, এসি ল্যান্ড থেকে সরসরি উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) হিসেবে যাতে নিয়োগ দেওয়া না হয় সেই ব্যবস্থা করছে তাঁর মন্ত্রণালয়। এর পক্ষে যু’ক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এসি ল্যান্ড হিসেবে কাজ করার পর অন্তত দেড় বছর জে’লা প্রশাসনে কাজ করতে হবে। এতে একদিকে মাঠ প্রশাসনে কর্মক’র্তার সংকট কমবে, অন্যদিকে তুলনামূলক দক্ষতা নিয়ে উপজে’লা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে যোগ দিতে পারবেন কর্মক’র্তারা।

এর আগে দিনাজপুরের এক ইউএনওর ওপর হা’মলার পরিপ্রেক্ষিতে আরো অ’ভিজ্ঞ অফিসারদের ইউএনও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত কি না সেই প্রশ্ন উঠেছিল। এদিকে বরিশাল সদরে নতুন ইউএনও নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রশাসন ক্যাডারের কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি কেউ এই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বি’রুদ্ধে বিভাগীয় মা’মলার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ের একজন শীর্ষ কর্মক’র্তা বলেন, সবার কাজেরই একটা সীমা’রেখা আছে। কাজ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে কোনো ঘটনাই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেই। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বরিশাল সদরে নতুন ইউএনও যেকোনো সময় নিয়োগ হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান ইউএনওকে বিভিন্ন কাজে আ’ট’কে রাখা হয়েছিল। নতুন কেউ নিয়োগ পেলেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজে’লা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অ’পসারণকে কেন্দ্র করে সদর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মুনিবুর রহমান শোভনের সঙ্গে সরকারি বাসভবনের সামনে পু’লিশের সঙ্গে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সম’র্থক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সং’ঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মা’মলা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কর্মক’র্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সাদিক আবদুল্লাহকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত উল্লেখ করে তাঁকে গ্রে’প্তারের দাবি জানায়। সৌজন্যে: কালেরকন্ঠ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    35
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: