![]()


দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে তাদের বাবা কামরুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কামরুল তাঁর ছেলে মোহাদ্দেস (৭) ও মেয়ে তুলনা আক্তার (৪)-কে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিরাই উপজেলার পেরুয়া (মধুপুর) গ্রামের বাসিন্দা কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামরুল দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কামরুল। পরদিন তিনি একা বাড়িতে ফিরে এলেও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সন্তানকে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে শিশু দুটির সন্ধানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় একটি অজ্ঞাতপরিচয় শিশুর মরদেহ হাওরে ভেসে ওঠে। পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাতপরিচয় শিশুর মরদেহ ভেসে ওঠে।
পুলিশ ধারণা করছে, হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি নিখোঁজ কামরুলের দুই সন্তান মোহাদ্দেস ও তুলনা আক্তারের। তবে মরদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর বুধবার কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিরাই থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু দুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল এবং কীভাবে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি মরদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।