![]()


মৌলভীবাজার সংবাদদাতা :
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার দুই নেতাকে সকল সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় সিদ্ধান্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এক নেতাকে ‘অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগও উঠেছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সংগঠক সারজিস আলম মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় তাদের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব কামরুল হাসান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে একই দিন রাতে জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশে ওই দুই নেতাকে দলের সকল সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিলেট বিভাগীয় সংগঠক এতেহশাম হকের কাছে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রাতেই এনসিপির নেতা অপহরণের অভিযোগে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই অপহরণের ঘটনা সাজানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এনসিপির জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা চান। তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদ নামের একজনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে ছুরির মুখে একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
আব্দুল্লাহ আল হুসাইনের দাবি, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দলীয় বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ অভিযোগ করেন, “শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির ঘটনাকে আড়াল করতে অপহরণ নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এনসিপির কোনো নেতার অপহরণের বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”