![]()


সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অবৈধভাবে পরিচালিত পশুর হাট স্থানান্তরের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতুর নতুন বাজারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কয়েকশ’ স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রংপুর রেঞ্জের বরখাস্তকৃত ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ এক যুগ ধরে স্কুল মাঠে পশুর হাট বসিয়ে অবৈধভাবে আয় করছেন। বাতেনের ভাই, পদচ্যুত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া এবং ভাতিজা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম মাহমুদ এই কার্যক্রমে জড়িত। প্রশাসন ও পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করা হলেও তাদের প্রভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ থেকে অবৈধ পশুর হাট অপসারণ করে সাতুর নতুন বাজারে বৈধভাবে হাট স্থাপন এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়াকে অপসারণের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, বাতেন পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ট্রাস্ট আইনবহির্ভুতভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।
২০১৪ সালে ডিআইজি বাতেনের পরিবারের উদ্যোগে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত হলেও এখনও অধিকাংশ শিক্ষক পদ এমপিওভুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে বাতেন তার ভাই আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়াকে বসিয়ে কৌশলে প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
২২ জানুয়ারি সাতুর নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পশুর হাট অপসারণের জন্য আবেদন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পূর্বেও একই দাবি করা হলেও বাতেন পরিবারের প্রভাবে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
দাতিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান ঝিনুক বলেন, “অত্র এলাকায় একটি বৈধ পশুর হাট প্রয়োজন। তবে অবৈধ হাটের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সাতুর নতুন বাজারে একটি নিয়মতান্ত্রিক হাট স্থাপন করুক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ পশুর হাট অপসারণ এবং বিদ্যালয় মাঠের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।