![]()


টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রথম ‘ক্ষণস্থায়ী কমন্স’ (Ephemeral Commons) বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি)। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর ‘ভালনারেবিলিটি টু ভায়াবিলিটি (V2V) গ্লোবাল পার্টনারশিপ’ এবং সিকৃবির উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. পার্থ প্রতিম বর্মণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব ই ইলাহী, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শহীদুল ইসলাম এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর প্রফেসর ও V2V গ্লোবাল পার্টনারশিপের পরিচালক ড. প্রতীপ কুমার নায়েক।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি একটি জীবন্ত কমন্স। বছরের একটি বড় সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকার পর শুকনো মৌসুমে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা কৃষিজমিতে পরিণত হয়। এ ধরনের ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনশীল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক—সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা আরও বলেন, এ কর্মশালা তরুণ গবেষক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জলাভূমি ও উপকূলীয় কমন্স ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিকৃবির উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর প্রফেসর ড. প্রতীপ কুমার নায়েক বলেন, কমন্স তত্ত্বকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনশীল সম্পদ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
কর্মশালায় টাঙ্গুয়ার হাওরের ‘ক্ষণস্থায়ী কমন্স’ নিয়ে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল ফেলো ড. রুয়েল মিয়া। তিনি তুলে ধরেন, হাওরের পানির উচ্চতা ও মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে জেলেদের অধিকার, কৃষকদের মালিকানা এবং সংরক্ষণ নীতিমালার কীভাবে পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশে কমন্স ও ক্ষণস্থায়ী কমন্সের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের (সিএনআরএস) পরিচালক ড. এম. মোখলেসুর রহমান।
কর্মশালায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সিএনআরএস এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর এ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর উপকূলীয় ও সামুদ্রিক কমন্স বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওরের অভিজ্ঞতাকে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালার অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।