![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা। এখন দেশটির সঙ্গে ‘শেষ’ পর্যায়ের দর কষাকষি চলছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এভিয়েশন ও ট্যুরিজম সেক্টরে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীদের একমাত্র সংগঠন ‘এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশের (এটিজেএফবি)’সদস্যদের সঙ্গে বেবিচক কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় এই তথ্য উঠে আসে। তবে জাপানের সঙ্গে দরকষাকষি (নেগোসিয়েশন) শেষ হলেও এই চুক্তি স্বাক্ষরে আরও অন্তত ৩ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর নানা টেকনিক্যাল পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক চলাচলের পর এই টার্মিনাল চালু হতে আরও অন্তত ৬ মাস থেকে বছরখানেক সময় লেগে যেতে পারে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
মতবিনিময় সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালটি ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হতে যাওয়া চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি সম্পূর্ণ ফেয়ার হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব। এ পর্যন্ত আমরা ৯ বার তাদের (জাপান) সঙ্গে নেগোসিয়েশনে বসেছি। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করা হবে।’
মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, আলোচনায় কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও এখনো কিছু বিষয়ে গ্যাপ রয়ে গেছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পর চুক্তি সই হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ৬ মাস থেকে এক বছরের একটি টেস্ট রান পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর আমরা সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে পারব বলে আশা করছি।’
সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে একটি ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারণ করেছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ এগিয়ে চলছে।’
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে দ্রুত বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণা অনুযায়ী, একটি বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে শিফটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই তা ব্যর্থ হয়। তাই আমরা সময় নিয়ে এগোচ্ছি, আশা করছি, কোনো ধরনের বিপদে পড়ব না।’
দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় টার্মিনাল অচল পড়ে থাকায় সেখানে স্থাপিত ইকুইপমেন্টগুলোর মেয়াদ বা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠে ওই সভায়। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) নিয়মিতভাবে ইকুইপমেন্টগুলোর মেইনটেনেন্স করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে। এমনকি মৌখিকভাবে তারা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সাপোর্ট দেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে বলে আভাস দেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘মূলত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট না হওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, সর্বশেষ অডিট সম্পন্ন হয়েছে ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে তাদের আসার কথা ছিল। তবে, সিকিউরিটি কনসার্নের কারণে তারা আসেনি। চলতি বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার কথা রয়েছে। তবে মূল অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে হবে বলে আইকাও আমাদের জানিয়েছে।’
অনুষ্ঠানে এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ এটিজেএফবি এবং বেবিচকের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।