![]()


হবিগঞ্জ সংবাদদাতা ::
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ১৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল নষ্ট হয়েছে। ৬টি বগির মধ্যে একটি খালে পড়ে যায়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকাসহ তিনটি ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ৯৫১ নম্বর ট্রেনটির ৬টি অয়েল ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটির মোট ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার লিটার তেল। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার লিটার তেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুটি বগি থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বাকি বগিগুলো থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ তেল নিখোঁজ হয়েছে। তবে সঠিক ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবে।’
দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করতে স্থানীয়রা ভিড় করেন। তবে সেনাবাহিনী ও হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে। বাকি তেল মাটিতে মিশে গেছে বা চুরি হয়ে গেছে বলে ধারণা কর্তৃপক্ষের।
ক্ষয়ক্ষতি শুধু তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্ঘটনার কারণে সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। আরও কয়েকটি ট্রেন নোয়াপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, আজমপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেওয়া হয়েছে, তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার দুর্ভোগ পোষাতে হয়নি।
রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
উদ্ধার কাজে রেলওয়ের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ অংশ নেয়। একটি বগি খালের পানিতে পড়ায় উদ্ধারকাজ দীর্ঘ হয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় উদ্ধার শেষে লাইন সংস্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি—কোনো বিষয় বাদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের দাবি, পুরনো স্লিপার, লাইনের নিচে মাটি ও পাথরের ঘাটতি এবং সিঙ্গেল লাইনের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যাত্রীবাহী ট্রেন হলে বড় ধরনের প্রাণহানি হতো।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চলছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, আপাতত ট্রেনগুলো সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। পুরো মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক গতি ফিরবে না।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক অর্থমূল্য এখনই জানানো সম্ভব নয়। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা নির্ধারণ করা হবে।