![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার সম্ভাব্য পৌর প্রশাসক কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে স্থানীয় বিএনপিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ে এই পদ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন আগ্রহ, তেমনি রয়েছে নানা সংশয়ও।
দলের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যারা দুঃসময়ে হামলা-মামলা, গুম-খুনের আশঙ্কা সত্ত্বেও দলের সঙ্গে থেকেছেন এবং সক্রিয়ভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন—তাদেরই এই দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে সুবিধা নেওয়া কিছু নেতাও আলোচনায় রয়েছেন।
পৌর প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দুই বিএনপি ও যুবদল নেতা—বড়লেখা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। তিনি বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ ও ২০২০ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যখন অনেকেই রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ভয়ে নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন এবং কারাভোগও করেছেন।
অন্যদিকে আব্দুল কাদির পলাশ দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গত উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হয়ে পরে মুক্তি পান। তার সমর্থকরা ইতোমধ্যে তাকে পৌর প্রশাসক হিসেবে দেখতে ব্যানার-ফেস্টুনও টানিয়েছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের দুঃসময়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন—তাদের মধ্য থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে বসানো উচিত। এতে পৌরসভার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিনি বিএনপির একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে সবসময় দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আশা করছেন দল তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে।
অন্যদিকে আব্দুল কাদির পলাশ জানান, দলের দুর্দিনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নেতাকর্মীরা তাকে এই পদে দেখতে চান। তিনি পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।