সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড়লেখার প্রবাসী নিহত, স্বপ্ন ভেঙে শোকস্তব্ধ পরিবার

বড়লেখা প্রতিনিধি ::

প্রায় ২৭ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ছিলেন বড়লেখা পৌরশহরের বাঁশতলা এলাকার যুবক সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮)। দুবাইয়ের আজমান সিটিতে পানির ট্যাঙ্কারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। দেশে ফিরে ফাউন্ডেশন তোলা দুইতলা বাড়ির নির্মাণ শেষ করা এবং বড় ছেলে আব্দুল হককে ইউরোপে পাঠানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত হলে তাকে আজমানের শেখ খালিফা সিটি মেডিকেল হসপিটাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী টেলিফোনে নিহতের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন। তিনি মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নির্দেশে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। এর আগে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খানও স্বজনদের খোঁজ নেন।

সোমবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। স্ত্রী মিনু বেগম বিলাপ করতে করতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন। আট বোনের মধ্যে ছয়জন ছুটে এসেছেন, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারা। অপর দুই বোনও পথে রয়েছেন। নিহতের দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান উদ্দিন দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং মরদেহ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা দেখভাল করছেন।

বড় ছেলে আব্দুল হক জানান, ইউরোপ পাঠানোর আশায় বাবা তাকে দুবাই নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়। ২০ দিন আগে দেশে ফিরলেও বাবার সঙ্গে আর দেখা হয়নি। “বাবা বলেছিলেন সাত মাস পর দেশে এসে ঘরের কাজ শেষ করবেন এবং আমাকে ইউরোপ পাঠাবেন। তার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র আমার বাবাকে কেড়ে নিল,” বলেন তিনি। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানান তিনি।

গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলার মো. শাহজাহান বলেন, সালেখ উদ্দিনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্ত্রী মিনু বেগম শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। মেজো ছেলে সালমান আহমদ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত, যার চিকিৎসায় মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর কিছুটা স্বস্তির দিন দেখার অপেক্ষায় ছিল পরিবারটি। কিন্তু হঠাৎ এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সব পরিকল্পনা থেমে গেল। এখন স্বজনদের একটাই আকুতি—মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরুক, আর পরিবারটি যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: