![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের জকিগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি (৫৯) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ হাওরে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিবারসহ লন্ডনে বসবাস করছিলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সিলেট জকিগঞ্জ উপজেলার ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে সাব্বির আহমদ (২১), জকিগঞ্জ উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের আবদুল হকের ছেলে তাহিরুল হক (২০) এবং নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মুহিবুর সামাদ শাহীনের ছেলে সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই রহস্য উদঘাটনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। গত ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি পৃথক অভিযানে প্রথমে সাব্বির আহমদকে জকিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুলতানপুর এলাকা থেকে তাহিরুল হক এবং নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে সৈয়দ শোভনকে গ্রেফতার করা হয়।
সাব্বির আহমদ ও সৈয়দ শোভন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া তাহিরুল হকের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে শফিকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জ থানাধীন কোনারবন্দ হাওর বিলপাড় এলাকায় তার মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে পরিচয় গোপন রাখা যায়।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের চার দিন পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে শফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি আগুনে পোড়া এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি লবণের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়। পরে পিবিআই ও সিআইডির সহায়তায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতার এবং আরও আলামত সংগ্রহে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।