![]()


সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রোববার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান তার নির্বাচনী হলফনামায় কোম্পানির শেয়ার ও আর্থিক দায় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “সত্যকে লুকিয়ে রেখে অন্যের দিকে আঙুল তোলা, নৈতিকতার মুখোশ পরে নিজের অন্যায় ঢেকে রাখা, এটা রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।” তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে জনগণের দৃষ্টি মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (জঔঝঈ) কর্তৃক ইস্যুকৃত সর্বশেষ ফর্ম-১২ অনুযায়ী মাওলানা হাবিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের পরিচালক এবং আল কারামা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক। অথচ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি এসব শেয়ার ও এর আর্থিক মূল্য যথাযথভাবে উল্লেখ করেননি।
তিনি আরও বলেন, একই তারিখে ইস্যুকৃত জঔঝঈ-এর শিডিউল ১০ এর সার্টিফায়েড রিপোর্টে দেখা যায়, ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের নামে প্রায় ২৪ কোটি ১ লাখ টাকার ঋণ অনাদায়ী রয়েছে। একজন পরিচালক হিসেবে এই আর্থিক দায় সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা আইনগত বাধ্যবাধকতা হলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর বিধানের লঙ্ঘন।
বিএনপি নেতা আরও দাবি করেন, ব্যাংকিং খাতে আলোচনা রয়েছে যে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা একটি বড় অংকের ঋণ কিস্তি অনিয়মিত হওয়ায় সম্প্রতি পুনঃতফসিল করা হয়েছে। আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায়ও বড় অংকের ঋণ আউটস্ট্যান্ডিং রয়েছে, যার তথ্যও হলফনামায় গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা কোনো গুজব ছড়াচ্ছি না। এসব অভিযোগ যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তুলেছি। বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক, সত্য প্রকাশ পাক, এটাই আমাদের দাবি।”
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের সঙ্গে অতীত রাজনৈতিক ঐক্যের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা একসঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছি। এখন হানাহানি বা বিদ্বেষ ছড়ানোর সময় নয়। জনগণই নির্বাচনে বিচার করবে—কারা তাদের আস্থার যোগ্য।”
তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরার বদলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মিথ্যা প্রচারণাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, মাওলানা হাবিবুর রহমানের হলফনামার তথ্য যাচাই, জঔঝঈ নথির আলোকে পরিচালনাগত দায় পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঋণসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা, তথ্য গোপনের ব্যাখ্যা জনসম্মুখে উপস্থাপন এবং মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান।
তিনি বলেন, “আমরা আইন মেনে শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা চাই না। চাই সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও সম্মানজনক নির্বাচন—যেখানে জনগণই হবে চূড়ান্ত বিচারক।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি