![]()


সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রবাসী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকে।
রোববার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুল মুকিত।
লিখিত বক্তব্যে মো. আব্দুল মুকিত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি বলেন, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী বিমানবন্দর ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো এটি কার্যকর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সিলেট অঞ্চলের লাখো প্রবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ আন্দোলনের পর যুক্তরাজ্য–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বারবার ফ্লাইট বন্ধ ও চালুর কারণে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও ওসমানীতে মূলত বাংলাদেশ বিমানের সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে সংগঠনটি উল্লেখ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানের মোট যাত্রীর বড় অংশ সিলেট অঞ্চলের হলেও সিলেট রুটে টিকিটের ভাড়া তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করা হয়। একই আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা ও সিলেটগামী যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে, যা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
এছাড়া বিমানবন্দরের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় নিয়মিত যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরা দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করা হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ইতোমধ্যে ওসমানী বিমানবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, আন্তর্জাতিক মানের ফুয়েলিং সিস্টেম, কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রধান বাধা হলো বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ওপেন স্কাই লাইসেন্স এখনো ইস্যু না হওয়া। এই লাইসেন্স প্রদান করা হলে বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনায় আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জানানো হয়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন আহমদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট এপ্রিল পর্যন্ত চালু রাখার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ওসমানী বিমানবন্দরকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি ব্রিটিশ, তুর্কিশ, কাতার, এমিরেটস, সৌদি এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চালু, সিলেট–ম্যানচেস্টার রুট স্থায়ীভাবে চালু রাখা, সিলেট ও ঢাকা রুটে ভাড়া বৈষম্য দূর করা, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অপারেটর যুক্ত করা এবং সিলেট-লন্ডন রুটে ভাড়া হ্রাসসহ সব আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ন্যায্য অধিকার। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ গাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি