![]()


যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা—যাতে আজকের যাকাতগ্রহীতা ভবিষ্যতে যাকাতদাতা হতে পারে। শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে যাকাতের বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে আল্লাহর নির্দেশিত এই বাধ্যতামূলক ইবাদত সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে বৈষম্য। ব্যক্তিগতভাবে যাকাত প্রদান করলে তা টেকসই হয় না; প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় যাকাত আদায় ও বণ্টন করলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্ভব—এমন মত দেন বক্তারা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত যাকাত আদায়ের নিয়ম-কানুন বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
সেমিনারে যাকাতের অর্থের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সিজেডএমের সিনিয়র ম্যানেজার হোসেইন সোহেলের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন।
দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী এবং সিলেট সরকারি কলেজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনায় মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক যাকাত নিরূপণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী যাকাত বিষয়ক মাসয়ালা-মাসায়েল তুলে ধরে প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিতদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বক্তারা জানান, সিজেডএম গত ১৭ বছর ধরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত তহবিল সংগ্রহ, বণ্টন ও তত্ত্বাবধান করে আসছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে মূলধন হস্তান্তরসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ সহায়তা পেয়েছে। সিজেডএমের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জীবিকা বা আয়-বর্ধক কার্যক্রম, মুদারিব, ফেরদৌসি (প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা), ইনসানিয়াত (জরুরি সহায়তা), জিনিয়াস ও গুলবাগিচা (শিক্ষা), নৈপুণ্য বিকাশ এবং দাওয়াহ।
বক্তারা আরও জানান, সিলেটের খাদিমনগরে সিজেডএমের সুরমা-১ ও সুরমা-২ জীবিকা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়েছে। জিনিয়াস শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে সিলেটের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৩০ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে; বর্তমানে ১৩০-এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পাচ্ছে। খাদিমনগর ও জয়পাশায় ফেরদৌসি কর্মসূচির আওতায় এক হাজার পরিবার নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। এছাড়া সিলেটে সিজেডএমের এফডিসিসি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।-বিজ্ঞপ্তি