![]()


সিলেট প্রেসক্লাব–সাংবাদিক মশাহিদ আলী স্টুডেন্ট স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে শিক্ষক–শিক্ষার্থী সম্পর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। তিনি মনে করিয়ে দেন, এইচএসসি পাসের পর চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির’র সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম’র সঞ্চালনায় বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শাবি ভিসি আরও বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং এতে পিতা–মাতার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ‘চক-ডাস্টার কালচার’ পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। শাবিকে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, গত ১৭ বছরে নতুন কোনো বিভাগ চালু হয়নি। তবে বর্তমান প্রশাসন আল-কুরআন ও দাওয়াসহ নতুন বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আইইআর (ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিও চলছে, যা সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, প্রেসক্লাব ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফয়েজ উল্যাহ প্রেসক্লাবের জন্য ভূমি প্রদান করেছিলেন, যা সিলেটের জন্য গর্বের বিষয়। নিজেকে মিডিয়াবান্ধব দাবি করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সহযোগিতার কারণেই তিনি নগরী হকারমুক্ত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ভালো উদ্যোগে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ইমাম–মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট চালু এবং কৃষক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন। স্কলারশিপ চালুর জন্য তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মশাহিদ আলীকে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, মশাহিদ আলী তার ছাত্র এবং তার ছাত্রই এমন বৃত্তি প্রবর্তন করেছে—এতে তিনি গর্বিত। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে মশাহিদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র সহসভাপতি খালেদ আহমদ জানান, মেধাবীদের উৎসাহ দিতে এবং শিক্ষার মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে এই স্কলারশিপ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী জান্নাতুল আহমদ মৌমি। কুরআন তেলাওয়াত করেন ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল।
অনুষ্ঠানে শাবির রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মো. আব্দুল কাদির, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক জাবেদ আহমদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসানসহ প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন, জান্নাতুল আহমদ মৌমি, ফারদিন আহমদ, তামজিদ নূর রশিদ, অয়ন বিশ্বাস, শাহ মো. রাকিবুল হাসান রাকিন, মেহজাবীন হাসান স্নেহা, ফাহমিদুল আলম, শাহদীন আহমদ সামি, জান্নাতুল ফেরদৌসী বুশরা, শামীম আরা শিউলী এবং এহসানুল হক অভি।
অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে ‘মেধাবী প্রজন্ম’ নামে একটি স্মরণিকাও প্রকাশিত হয়।-বিজ্ঞপ্তি
