![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট ইউকের অনুমোদিত কার্ডিফ শাখা আয়োজিত স্পেশাল ক্বিরাত ও তাজবীদ কোর্স ২০২৫-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) কার্ডিফের ঐতিহ্যবাহী জালালিয়া মসজিদ এন্ড ইসলামিক সেন্টারে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কার্ডিফ শাখার প্রধান ক্বারী ও নাজিম, জালালিয়া মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির। সঞ্চালনা করেন কার্ডিফ বাংলা অনলাইনের সম্পাদক ও শাখার শিক্ষক ক্বারী মো. মোজাম্মেল আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মাওলানা আশরাফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের নির্বাহী পরিদর্শক মাওলানা এনামুল হক, আনজুমানে আল ইসলাহ ওয়েলস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ, কার্ডিফ শাহজালাল মসজিদের ইমাম মাওলানা কাজী ফয়জুর রহমান, ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুরসহ বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী হোসেইন আলী এবং নাশিদ পরিবেশন করেন হুমায়রা চৌধুরী শানা। এ বছর জামাতে সুরা থেকে খামিছ পর্যন্ত ছয়টি ক্লাসের পরীক্ষা এবং কিরাত, নাশিদ, আজান ও তাজবীদ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট, মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এবারের বোর্ড পরীক্ষায় (জামাতে খামিছ, লন্ডন ও বার্মিংহাম কেন্দ্র) কার্ডিফ শাখার ৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রধান অতিথি মুফতি মাওলানা আশরাফুর রহমান বলেন, “বিশুদ্ধ তাজবীদ সহ কুরআন শিক্ষা বিস্তারে দারুল ক্বিরাত একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। এর প্রতিষ্ঠাতা শামছুল উলামা আল্লামা ফুলতলী (রহ.) ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ ক্বারী। প্রবাসেও এই প্রতিষ্ঠান নবপ্রজন্মকে সঠিক কুরআন শিক্ষায় দীক্ষিত করছে।”
অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ, দোয়া ও শিরনী বিতরণের মাধ্যমে সমাপনী পর্ব সম্পন্ন হয়। পুরো আয়োজনটি কার্ডিফ কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামী শিক্ষার প্রতি নতুন অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।