![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের সদর উপজেলার ধোপাগোল এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে সোমবার (১৬ জুন) এবং মঙ্গলবার (১৭ জুন)—দুই দিনে মোট ৬৩টি ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বৈদ্যুতিক মিটারও।
সোমবারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেরিনা দেবনাথ। এদিন সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের ধোপাগুল বাজার এলাকায় ৩০টি অবৈধ ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে স্থাপিত এসব ক্রাশার মেশিন জনস্বার্থ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াত। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ৩৩টি ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স।
ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত জানান, “ধোপাগোল এলাকায় সাদাপাথর অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ক্রাশার মেশিনে ভাঙানো হচ্ছিল। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শনকালে পরিবেশ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল করিম খান অবৈধ স্টোন ক্রাশারগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। তারই নির্দেশনায় ধারাবাহিকভাবে চলছে এই অভিযান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।