সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কিস্তির এক হাজার টাকার জন্য দুধের সন্তানকে রেখে জে’ল যেতে হলো মাকে

ঋণের কিস্তির মাত্র এক হাজার ১০ টাকা পরিশোধ না করার ঘটনায় বরিশালের গৌরনদী উপজে’লায় নুরুন্নাহার বেগম নামের এক গৃহবধূকে চেক জালিয়াতি মা’মলা দিয়ে জে’ল খাটানোর অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মা’মলায় বুধবার (১৯ মে) সকালে নুরুন্নাহার বেগমকে গ্রে’প্তার করে গৌরনদী থা’না পু’লিশ।

এসময় নুরুন্নাহার বেগমের কোলে তার ১২ মাস বয়সী দুধের সন্তান ছিল। সন্তানকে স্বামীর কোলে তুলে দিয়ে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন নুরুন্নাহার বেগম।

ওই দিন দুপুরে নুরুন্নাহার বেগমকে আ’দালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে পুরো উপজে’লায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডর কর্তৃপক্ষের বি’রুদ্ধে বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।

অবশেষে বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেলে জামিনে মুক্তি পান নুরুন্নাহার বেগম। কারাগার থেকে রাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

নুরুন্নাহার বেগম বরিশালের গৌরনদী উপজে’লার বাটাজো’র ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী’। সেলিম হাওলাদার ক্ষুদ্র একজন ব্যবসায়ী। ২০১৯ সালে সেলিম হাওলাদারের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। ওই বছর পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির বাটাজো’র বন্দর অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে স্বামীকে দিয়েছিলেন স্ত্রী’ নুরুন্নাহার বেগম।

ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার বেগম , ‘২০১৯ সালে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির বাটাজো’র বন্দরের অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। স্বামীর ব্যবসা খা’রাপ যাচ্ছিল। ওই টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। ওই টাকা ব্যবসায় খাটিয়ে স্বামী সেলিম হাওলাদার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। সোসাইটির নিয়মানুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ৯০০ টাকা করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে থাকি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মাল্টিপারপাসের অনুকূলে ২০ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করি এবং সঞ্চয় বাবদ ৮ হাজার ৯০ টাকা জমা দিয়েছিলাম।’

‘করো’নার কারণে স্বামী সেলিম হাওলাদারের ব্যবসা লোকসানের মুখে পড়ে। সংসারে আর্থিক অনটন দেখা দেয়। এরপরও মাল্টিপারপাসের কিস্তির টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করে গেছি। তবে ২০২০ সালের মা’র্চের দিকে মাল্টিপারপাসের বাটাজো’র অফিস বন্ধ থাকায় কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হয়নি। ফলে কিস্তি বাবদ এক হাজার ১০ টাকা মাল্টিপারপাসে জমা দেয়া হয়নি।’

‘দুইদিন আগে গৌরনদী মডেল থা’নার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইস’লাম বাসুদেবপাড়া কালীবাড়ি বাজারে গিয়ে আমা’র খোঁজ করেন এবং তার সঙ্গে থা’নায় দেখা করতে বলেন। বুধবার সকালে স্বামী সেলিম হাওলাদারকে নিয়ে থা’নায় দেখা করি। এসময় কোলে আমা’র ১২ মাসের সন্তান ছিল। এএসআই রফিকুল ইস’লাম জানান, পপুলার মাল্টিপারপাস সোসাইটি কর্তৃপক্ষ আমা’র বি’রুদ্ধে চেক জালিয়াতির অ’ভিযোগ এনে ২০২০ সালে পিরোজপুর আ’দালতে একটি মা’মলা করেছেন। ওই মা’মলায় গ্রে’প্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আ’দালত। এরপর তারা আমাকে গ্রে’প্তার করেন। এসময় আমা’র কোলে থাকা ১২ মাসের দুধের সন্তানকে তার বাবার কোলে তুলে দেই। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে আ’দালত আমাকে জামিন দেন। সন্ধ্যার পর কারাগার থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরেছি’, বলেন নুরুন্নাহার বেগম।

নুরুন্নাহার বেগমের অ’ভিযোগ, সামান্য কয়টা টাকার জন্য তার নামে মা’মলা দেয়া হয়েছে। সেই মা’মলায় জে’ল খাটতে হয়েছে। কিন্তু পপুলার মাল্টিপারপাস সোসাইটি কর্তৃপক্ষ মা’মলার আগে একবারও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বা কোনো নোটিশ দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘তাদের কারণে আমা’র দুধের সন্তান থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এটা যে সন্তানের মায়ের কাছে কতটা বেদনাদায়ক তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আল্লাহর কাছে এর বিচার দিলাম।’

গৌরনদী মডেল থা’নার এএসআই রফিকুল ইস’লাম জানান, ২০২০ সালে পিরোজপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে নুরুন্নাহার বেগমকে আ’সামি করে চেক জালিয়াতির মা’মলা করা হয় (যার নম্বর- সিআর- ৪৫৩/২০)। ওই মা’মলায় পলাতক থাকায় পিরোজপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আ’দালত নুরুন্নাহার বেগমের বি’রুদ্ধে গ্রে’প্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পিরোজপুর থেকে গত ১৮ এপ্রিল নুরুন্নাহার বেগমের বি’রুদ্ধে গ্রে’প্তারি পরোয়ানাটি গৌরনদী মডেল থা’নায় পৌঁছে। এরপর গ্রে’প্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশনা পেয়ে নুরুন্নাহার বেগমকে গ্রে’প্তার করে আ’দালতে সোপর্দ করা হয়।

নুরুন্নাহার বেগম মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির বাটাজো’র বন্দর অফিস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, তাহলে তার বি’রুদ্ধে কী’ভাবে অন্য জে’লায় (পিরোজপুর) মা’মলা দায়ের হয়েছে জানতে চাইলে এএসআই রফিকুল ইস’লাম বলেন, ‘গ্রে’প্তারি পরোয়ানায় এতো কিছু উল্লেখ থাকে না। তাই এ বিষয় কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে শুনেছি মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির প্রধান কার্যালয় পিরোজপুরে। নুরুন্নাহার বেগম বাটাজো’র অফিস থেকে ঋণ নিলেও হয়তো মাল্টিপারপাস কর্তৃপক্ষ কাগজে কলমে প্রধান কার্যালয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ঋণ দেয়ার সময় হয়তো তারা নুরুন্নাহার বেগমের চেক নিয়েছেন। ওই চেক পিরোজপুরের কোনো ব্যাংকের শাখা থেকে ডিজঅনার করানো হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে নুরুন্নাহার বেগমের নামে পিরোজপুরের আ’দালতে মা’মলা হয়ে থাকতে পারে।’

অ’ভিযোগ ও মা’মলার বিষয় জানতে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির বাটাজো’র অফিসের একাধিক কর্মক’র্তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বাটাজো’র এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির অফিসটি বেশকিছু দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু দিন ধরে তাদের কোনো কর্মক’র্তা বা মাঠকর্মীদের এলাকায় দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বা’স বলেন, ‘নুরুন্নাহার বেগমকে গ্রে’প্তারের পর তার বাবা আমা’র কার্যালয় এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি এরপর গৌরনদী মডেল থা’নার কর্মক’র্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে গ্রে’প্তারি পরোয়ানা থাকায় থা’না পু’লিশেরও এ বিষয় কিছু করার ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির কর্তৃপক্ষ সামান্য টাকার জন্য নুরুন্নাহার বেগমের বি’রুদ্ধে মা’মলা দেবে, এটা চরম নিষ্ঠুরতা। দুধের সন্তান রেখে নুরুন্নাহার বেগমকে জে’ল যেতে হয়েছে, এটাও দুঃখজনক।’

পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অ’পারেটিভ সোসাইটির বি’রুদ্ধে আমানতকারীদের হয়’রানি করাসহ নানা অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। অ’ভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 722
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    722
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: