![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জাহেদা পারভীন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। সুতরাং এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবো না। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে—কারা জড়িত আর কারা নয়।”
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে পাথর ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সবার সঙ্গে কথা বলা হবে। “আমরা স্পট পরিদর্শন করেছি, সরেজমিনে দেখে ধারণা নিয়েছি। কাজ শেষ না করে মন্তব্য করতে চাই না। সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলো উল্লেখ করবো,” বলেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) তদন্ত কমিটি কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর কোয়ারি, পর্যটনকেন্দ্র ও রেলওয়ে বাংকার এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
বুধবারের গণশুনানিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতি ও সাংবাদিক নেতারাও বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ আগস্ট মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দুদকের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসির নামও উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ৪২ জন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীর নামও তালিকাভুক্ত করা হয়।
দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাদাপাথর লুটপাটে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ ছিল। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদনে শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।