![]()


সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল::
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের দ্বি-বাষিক নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আকরাম হোসাইন চৌধুরী এবং কে. এম. রাসেদুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা এই আদেশের পর স্থগিত ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ২৭ জন ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেন। এরপর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়।
তবে, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও যুগান্তর প্রতিনিধি সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন এ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বহিষ্কৃত সদস্য এম ইদ্রিস আলীকে পুনরায় সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে এবং কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বুলেটসহ আরও কয়েকজন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সৈয়দ আবু জাফর এই বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে তফসিল বাতিলের আবেদন করেন, যা নাকচ হলে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এ রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং এডভোকেট মৃদুল দত্ত। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা সুলতানা দীপ্তি।
শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন এবং প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের পর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য প্রেসক্লাবের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই আদেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, হাইকোর্টের আদেশ প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।