![]()


হবিগঞ্জ সংবাদদাতা:
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা পরিস্থিতি, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে হাম প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য জেলা সদর হাসপাতালের তুলনায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতার মান সন্তোষজনক নয়। দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় ফার্মাসিস্ট রিগান হোসেনকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ ও পেইং বেড-কেবিন ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৩টি পেইং বেড, ৬টি সাধারণ কেবিন ও ২৩টি ব্যবহারযোগ্য এসি কেবিন থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বছরে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ গত বছরের মে মাসে বেড চার্জ বাবদ ১ লাখ ১৯ হাজার এবং জুলাইয়ে ১ লাখ ৭ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব হিসেবে জমা দেখানো হয়েছে।
সম্ভাব্য আয় ও সরকারি কোষাগারে জমার হিসাবের মধ্যে বড় ব্যবধানের অভিযোগ ওঠায় পেইং বেড ও কেবিনের বরাদ্দ রেজিস্টার, রোগীর তথ্য, মানি রিসিট, ক্যাশবুক, ব্যাংক হিসাব ও সরকারি কোষাগারে জমার চালান মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় পর্যাপ্ত শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী ভর্তি হলেও অর্ধশতাধিক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হয়।
পেইং বেড ও কেবিনের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের আরএমও ডা. মোমিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
পরিদর্শনকালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।