সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে এমবিই খেতাব গ্রহণ করলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আবু তাহের

প্রবাস ডেস্ক ::

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় আয়োজনে “মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE)” সম্মাননা গ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট হিসাবরক্ষক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক আবু তাহের।

বুধবার (১৩ মে) প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে তিনি এ মর্যাদাপূর্ণ খেতাব গ্রহণ করেন। পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার তাঁকে এ সম্মাননায় ভূষিত করে।

লন্ডনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে আবু তাহেরের হাতে এমবিই সম্মাননা তুলে দেন।

এ সময় তাঁর সহধর্মিণী মিতা তাহের, একমাত্র মেয়ে অনিকা তাহের এবং ছোট ছেলে তামিম তাহের উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মুহূর্তটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।

সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আবু তাহের বলেন, “এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি এই অর্জন আমার পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং কমিউনিটির মানুষদের উৎসর্গ করছি।”

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবু তাহের ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তিনি দক্ষ ও পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি “Mahi & Co Certified Practising Accountants” প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক পরামর্শ ও হিসাবরক্ষণ সেবা প্রদান করছে।

তিনি Institute of Certified Practising Accountants-এর ফেলো সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও আবু তাহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত “Shanghati Literary Society”-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি থেকে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দিয়েছেন।

সংগঠনটির উদ্যোগে নিয়মিত কবিতা উৎসব, সাহিত্যসভা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর রয়েছে বিস্তৃত সম্পৃক্ততা। “Masuma Memorial Trust”-এর মাধ্যমে তিনি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখতে তিনি “T5 Tailoring Training Centre” প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া “Vision Care Foundation”-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, অপারেশন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

লন্ডনে আয়োজিত সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসবের অন্যতম আয়োজক হিসেবেও তিনি প্রশংসিত। এ উৎসব প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি “Heaven Care Home” নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশা, সাহিত্য ও সমাজসেবাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আবু তাহের যে অবদান রেখে চলেছেন, তা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর এ অর্জনকে দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: