![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাজধানীর পল্টন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান আসামি রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ ও সেখানে অবস্থানের অভিযোগে রোববার (৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)।
পুলিশ জানায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটনের পর তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার পেছনে কোনো ধরনের অর্থায়ন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে সম্ভাব্য অর্থ স্থানান্তর বা গোপনের ঝুঁকি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
এর পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তবে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ইতোমধ্যে ছয়বার পিছিয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন ও যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।