![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারতীয় অবৈধ মহিষ ও মানব পাচারকারি একটি চক্র বিজিবির টহল দলের সদস্যদের ঘিরে মব সৃষ্টি করে অপদস্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোরে বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি বিওসি টিলা বিওপি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোরে বিওসি কেছরীগুল এলাকা দিয়ে ভারতীয় অবৈধ মহিষের একটি বড় চালান পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিওসি টিলা বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহলদল তৎপর হয়। হাবিলদার আলভার্ট সাংবার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টহলদল ডিমাইবাজার ও বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা চৌমুহনী এলাকায় টহল জোরদার করে।
ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পাখিয়ালা পয়েন্টে কেছরীগুল এলাকার প্রায় ১৫-১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে মোটরসাইকেলে বসে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে না পারায় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, মোবাইলের ডায়ালে কেছরীগুল এলাকার এক চিহ্নিত চোরাকারবারির নম্বর রয়েছে। এতে বিজিবির সন্দেহ হয় যে পাচারকারীরা তাকে সোর্স হিসেবে সেখানে অবস্থান করিয়েছে।
বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরটি জানায়, সে শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই মহিষ পাচারকারি নবাব ২০-২৫ জন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিজিবির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কিশোরের মোবাইল ফোন কেন নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে আঙুল তুলে হুমকি-ধমকি দেন এবং টহল দলের প্রধান হাবিলদার আলভার্ট সাংবাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিজিবি সদস্যরা কিশোরের মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজের পর কেছরীগুল এলাকার এক কিশোর মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের পাখিয়ালা চৌরাস্তা পয়েন্টে অবস্থান করা এবং তার মোবাইলে এক চোরাকারবারির নম্বর থাকা সন্দেহজনক। এ ছাড়া কেছরীগুল এলাকার চিহ্নিত ভারতীয় মহিষ ও গরু পাচারকারি ঘটনাস্থলে এসে ওই কিশোরের পক্ষ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, মহিষ পাচারের চালান সম্পর্কে বিজিবি জানতে পারায় পাচারকারীরা পরিকল্পিতভাবে অন্য কৌশল গ্রহণ করে। বিজিবিকে হুমকি-ধমকি ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে রেখে ভিন্ন পথে চোরাই মহিষের চালান পাচার করা হয়।
এ বিষয়ে বিওসি টিলা বিওপির হাবিলদার আলভার্ট সাংবা বলেন, মহিষ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ সদস্যের একটি টহলদল নিয়ে ভোর পাঁচটার দিকে ডিমাই বাজার, কেছরীগুল ও বড়লেখা পাখিয়ালা চৌরাস্তা এলাকায় টহল দিচ্ছিলাম। এ সময় কেছরীগুল এলাকার দশম শ্রেণির এক কিশোরকে মোটরসাইকেল নিয়ে বসে থাকতে এবং ফোনে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোন যাচাই করে দেখা যায়, সে একজন পাচারকারির সঙ্গে কথা বলেছে।
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কিশোরটি জানায় সে শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা এবং তার নাম সাব্বির। পরে ওই পাচারকারি ঘটনাস্থলে এসে বিজিবির সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং নানা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোনটি ফেরত দিয়ে বিজিবি সদস্যদের নিয়ে তিনি ক্যাম্পে ফিরে যান। বিষয়টি বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।