![]()


সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মিরগঞ্জ বাজার এলাকায় কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেট-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বুধবার দিনের আলোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে মিরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা পাড়ের ফতেহপুর গ্রামের আবুল, আবুল খায়ের, আব্দুল, হারুন ও সুফিয়া খাতুনসহ কয়েকজনের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, জোহরের পর থেকেই নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে এবং বসতঘরের পাশে ফাটল দেখা দেয়। বিকেল তিনটার দিকে একে একে ঘরবাড়ি নদীতে ধসে পড়ে। স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।
রাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠককালে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী পুনর্বাসন, সরকারি সহায়তা এবং পবিত্র রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোর খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত অনেকে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সিলেট-৬ আসনের মানুষ এমন দ্রুত সাড়া দেওয়া জনপ্রতিনিধি খুব কমই দেখেছেন। অতীতে দুঃসময়ে অনেক সময় জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যেত না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত জনতা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার এলাকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।
রাতের বৈঠকে সিলেট জেলা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি