![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রেলওয়ের অন্তত ১০ কোটি টাকার সরকারি ভূমি জবর-দখল করে মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বড়লেখা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদ।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, বড়লেখা রেলস্টেশনের পশ্চিম-উত্তর দিকের সরকারি খাদ্য গুদামের পশ্চিমে জেএল নং-৬৮, দাগ নং-৩২৫ এর ৪৬ শতক রেলওয়ের ভূমি দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে ভোগদখলে ছিল তাদের পরিবার। করিমা পারভিন নামের এক নারী লিখিত অভিযোগে জানান, তার বাবা মৃত আব্দুল মন্নান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৯৯ বছরের স্থায়ী কৃষি লিজ নেন। ৫০-৬০ বছর ধরে তারা ওই ভূমি ভোগ করে আসছেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনিই ভোগাধিকারে ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বারইগ্রামের মৃত ফরিজ আলীর ছেলে এবাদুর রহমান এবাদ দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তিনি ২০১৫ সালে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে (বড়লেখা) স্বত্ব মামলা (১৪৮/২০১৫) দায়ের করলে আদালত ভূমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা এখনো বহাল রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলওয়ের লিজগ্রহীতার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দে ভূমি ভরাট করে সেখানে পৌরসভার সবজি বাজার স্থানান্তর করা হয়। তৎকালীন পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর উদ্যোগে নিচু জমিতে কয়েক লাখ টাকার মাটি ভরাট করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ মার্চ তৎকালীন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে বাজারের উদ্বোধন করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেয়র আত্মগোপনে গেলে ওই সুযোগে বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে এবাদুর রহমান এবাদ পুনরায় ভূমি দখলের উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে মাটি ভরাট ও দোকানঘর নির্মাণের মালামাল মজুত করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে রেলওয়ের আরেক লিজগ্রহীতা সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের ৫১ শতক ভূমি দখল করে টিনসেট ঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল হান্নানের ছেলে মঞ্জুরুল হান্নান পিটিশন মামলা (০৯/২৫) দায়ের করলে আদালত ওই ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
করিমা পারভিন আরও অভিযোগ করেন, গত ২৫ জানুয়ারি তিনি বাধা দিতে গেলে এবাদ ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে রক্ষা করেন। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় পুনরায় দখলের চেষ্টা হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এবাদুর রহমান এবাদ দাবি করেন, ভূমিটি তাদের মৌরসি সম্পত্তি এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। স্থিতাবস্থা জারি থাকা অবস্থায় কেন নির্মাণকাজের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসনের বাধার কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।