সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিএনপির জনসভায় শাবি ভিসি-প্রোভিসি’র উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের একটি নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থেকে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নির্বাচনী জনসভায় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরকে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এ সময় মঞ্চে তাঁদের অবস্থানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন–১৯৮৭ অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা তাঁর রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ বা নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, আইন থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বাঁশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে মঞ্চে অবস্থান নেন, যা আইনপরিপন্থী।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়াও তীব্র। এ আর আনিস নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক?’
আরেক শিক্ষার্থী এস. এইচ. প্রান্ত মন্তব্য করেন, ‘সাস্টের প্রতিটা স্টুডেন্টের ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করতে ভিসি, প্রোভিসি স্যারের দৌড়ঝাঁপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখাই ভালো।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসিসহ যারা তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গেছেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আইনবিরোধী কাজে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত। আমরা শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিচার চাই, সেখানে শীর্ষ প্রশাসন নিজেরাই আইন ভাঙছেন—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘এর আগেও আমাকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন আমি পড়েছি। আমরা সেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় যাইনি, শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।’

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: