![]()


চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসকে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বন্দর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যা—দুর্নীতি, দীর্ঘ ওয়েটিং টাইম এবং প্রযুক্তিগত পশ্চাতপদতার—স্থায়ী সমাধান হিসেবেই এই উদ্যোগ দেখা হচ্ছে।
সরকার বলছে, বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলোর মতো প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে দেশের প্রধান বন্দরটি নতুন গতিতে এগোতে পারবে।
সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে, বন্দর বা টার্মিনালের মালিকানা বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
লালদিয়া টার্মিনাল পুরোপুরি বাংলাদেশের মালিকানায় থাকবে। এপিএম টার্মিনালস নিজস্ব অর্থায়নে টার্মিনাল নির্মাণ করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনা করবে। সময় শেষে পুরো টার্মিনাল বাংলাদেশকেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এপিএম টার্মিনালস হলো বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্ট এপি মোলার–মেয়ার্স্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। তারা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩৩ দেশে ৬০টির বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বন্দরের ১০টির অপারেটর এরা।
সম্পূর্ণ বিনিয়োগ এপিএম-এর: সাইনিং মানি ২৫০ কোটি টাকা, নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা। সরকার কোনো অর্থায়ন বা গ্যারান্টি দিচ্ছে না।
চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিপিপি প্রকল্পে এটি মধ্যম মেয়াদ হিসেবেই বিবেচিত।
হ্যান্ডলিংভিত্তিক আয়ের মডেল: তারা যত কনটেইনার হ্যান্ডল করবে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ফি দেবে। ন্যূনতম ভলিউমের নিশ্চয়তাও থাকবে।
নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অপারেটর নির্বাচন পিপিপি নীতিমালার জি-টু-জি কাঠামো অনুযায়ী হয়েছে। প্রাক-যোগ্যতা যাচাই, টেকনিক্যাল ও ফিনান্সিয়াল মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ধাপ অডিটযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চুক্তিপত্র প্রকাশ না করার বিষয়ে সরকার বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে এটি প্রচলিত নিয়ম। ব্যবসায়িক তথ্য প্রকাশ হলে ভবিষ্যৎ দরপত্র প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকার বলছে—না। লালদিয়া প্রকল্পে কোনো বিদেশি ঋণ নেই, পুরো বিনিয়োগই এপিএম-এর। মালিকানা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক স্টাডি, স্টেপ-ইন রাইটসহ সব প্রভিশন আছে, যাতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকে।
চুক্তিতে কড়া পারফরম্যান্স ভিত্তিক শর্ত আছে। ব্যর্থ হলে বা চুক্তিভঙ্গ করলে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে, প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাপনা চালু করা যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান টার্মিনালগুলোতে ডিজিটাইজেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন চলছে। তবে বন্দর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে অপারেশনাল প্রতিযোগিতা বাড়বে, বটলনেক কমবে, এবং সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
সরকার জানায়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, কাস্টমসসহ সব সংস্থার নিরাপত্তা প্রটোকল অপরিবর্তিত থাকবে। প্রযুক্তিগত বিষয়েও ডেটা লোকালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোল কঠোরভাবে মানা হবে।
বছরে অতিরিক্ত ৮ লাখ TEU ধারণক্ষমতা যোগ হবে
পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে
আমদানি-রপ্তানি দ্রুত হবে
দ্বিগুণ বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে
নতুন রুটে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হবে
৫০০–৭০০ জনের সরাসরি এবং হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান
বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের সুযোগ
ডিজিটাল অপারেশন সিস্টেম ও আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর
দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব “গ্রীন পোর্ট” হিসেবে গড়ে উঠবে লালদিয়া টার্মিনাল
সরকারের বক্তব্য—এক দল আছেন যাদের প্রকল্প সম্পর্কে জ্ঞান কম, আবার অনেকে অতীতে বন্দর থেকে অবৈধ সুবিধা নিতেন। উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে যাওয়ায় তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই বিরোধিতা করছেন।