![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশির সংখ্যা পৌঁছেছে রেকর্ড পর্যায়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (EUAA)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৪৪ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপজুড়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
রিপোর্ট অনুসারে, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে এককভাবে ইতালিতে জমা পড়েছে ৩৩ হাজার ৪৫৫টি আবেদন, যা মোট আবেদন সংখ্যার সিংহভাগ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যেখানে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৪২৯টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে এসব আবেদন জমা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের সহজতর রুট, এবং দেশটির শরণার্থী নীতির কিছু শিথিলতা বাংলাদেশিদের সেখানে বেশি আবেদন করতে উৎসাহিত করছে।
EUAA জানায়, শুধু ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে পর্যন্ত ২০ হাজার ২৩৩টি নতুন আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ, বছরের শেষার্ধেই মোট আবেদন সংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জমা পড়ে, যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
পরিসংখ্যান আরও জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের ইতিবাচক স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, শতকরা ৯৬ ভাগ আবেদনই বাতিল অথবা অগ্রাহ্য হয়েছে। এই হার ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী অন্যান্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় অনেক কম, যা উদ্বেগের বিষয়।
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ, প্রায় ৪৭,৭৭৮ জন বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। এ ছাড়া ১,৯৮৯ জন আবেদনকারী ইতোমধ্যে নিজেদের আবেদন স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা UNHCR-এর বিশ্ব রিফিউজি দিবস (২০ জুন) উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ইউরোপের ইতালিতে বাংলাদেশিদের আবেদন সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।
অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই অনিয়ন্ত্রিত প্রবণতা ভবিষ্যতে দুই মহাদেশের রাজনৈতিক ও মানবিক নীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একদিকে দেশে কর্মসংস্থানের সংকট ও দারিদ্র্য, অন্যদিকে ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির কঠোরতা — এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে বিপদে পড়ছে হাজার হাজার তরুণ।
২০২৪ সালের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, ইউরোপে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা শুধুমাত্র বাড়ছেই না, বরং তা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যদিও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করছেন একটি ‘ভালো জীবনের’ আশায়, বাস্তবতা অনেকটাই কঠিন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নীতির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার না করা হলে, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।