![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং এ পেশা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে সিলেটে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (ডিজিএনএম) সহযোগিতায় কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালের প্রোনার্স প্রকল্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে আর্থিক সহায়তা দেয় কানাডা সরকার।
‘নার্সিং বেছে নিন, মানুষের জীবনে ছোঁয়া দিন, ভবিষ্যৎ গড়ুন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজশিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিজ্ঞ নার্স, নার্সিং শিক্ষাবিদ এবং সরকারি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নার্সিং শিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া, পেশাগত সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দিল আফরোজা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সুমন মেহেদী, সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দও এবং অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স ড. আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ বিথিকা মণ্ডল। প্রোনার্স প্রকল্পের টিম লিডার ডা. সেলিনা আমীন আয়োজনের উদ্দেশ্য ও প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাঁদের অবদান অপরিসীম। নার্সিং শুধু মানবসেবার পেশা নয়, এটি দক্ষতাভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ একটি পেশা। এ শিক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, শিক্ষকতা, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, প্রশাসন ও নেতৃত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই নার্সিং পেশা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে তরুণ-তরুণীদের এ শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে হবে।
কর্মসূচিতে সিলেট এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং অগ্রগামী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অংশ নেন। এ ছাড়া নার্সিং ও স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অধিবেশন ‘জীবনের গল্প: নার্সদের বাস্তব অভিজ্ঞতা’ পর্বে সিলেটে কর্মরত অভিজ্ঞ নার্সরা তাঁদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, সাফল্য ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা নার্সিং শিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা, কর্মসংস্থান, পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন।
উল্লেখ্য, প্রোনার্স প্রকল্পের আওতায় দেশের নার্সিং খাতের পেশাগত উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত আট বছর মেয়াদি এ প্রকল্প স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ল ও কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুলস অব নার্সিং।