সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে শিক্ষক সংকট : ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান

সিলেট অঞ্চলে প্রাথমিকের ৪ হাজারের বেশী শিক্ষক ও কর্মচারীর পদ শূন্য। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের চার জে’লার বিভাগের ৫ হাজার ৫৪ টি বিদ্যালয়ে ৪ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর পদ শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১২টি প্রধান শিক্ষক ও ১ হাজার ৭৮১ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ৪ জে’লায় অফিস সহকারী, এমএলএসএস ও নৈশপ্রহরী সহ আরো সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে।

একসাথে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ খালি থাকায় পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষা কার্যক্রমে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুন্যপদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

একই হাল প্রাথমিক শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পিটিআইয়ের (প্রাথমিক টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট)। পিটিআই সিলেট অঞ্চলের ৪ টি জে’লায় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট, ইন্সট্রাক্টর ও শিক্ষক সহ ৭৪ জন কর্মক’র্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ২৪ জন। এ পদে কর্মক’র্তার পদ খালি রয়েছে ৪৩টি। এছাড়া ৪ জে’লায় উচ্চ’মান সহকারী, কম্পিউটার অ’পারেটর, অফিস সহকারী, এমএলএসএস, আয়া ও মালিসহ ২৯ জন কর্মচারীর স্থলে আছেন মাত্র ৫ জন। এপদে কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে ২৪টি। এক সাথে এত পদ খালি থাকায় একদিকে দায়িত্বরত পিটিআই কর্মক’র্তা-কর্মচারীগণ যেমন দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন। অ’পরদিকে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও কম সংখ্যক লোকবল দিয়েই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তাবৃন্দ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে সিলেট। এরমাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পিটিআইসহ সকল সেক্টরে লোকবল সংকট একটি অশনি সংকেত। অবিলম্বে প্রাথমিকের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে ৫ হাজার ৫৪টি প্রধান শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্ম’রত রয়েছেন ৪ হাজার ৪২ জন। এরমধ্যে ১ হাজার ১২টি পদ খালি রয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জে’লায় ২১৪ টি, সুনামগঞ্জে ২৮১টি, হবিগঞ্জে ২৪৯টি ও মৌলভীবাজারে ২৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া বিভাগে ২৫ হাজার ১১৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্ম’রত আছেন ২৩ হাজার ৩৩৩ জন। এরমধ্যে খালি রয়েছে ১ হাজার ৭৮১ টি পদ। তন্মধ্যে সিলেট জে’লায় ৩৫১টি, সুনামগঞ্জে ৭০২টি, হবিগঞ্জে ৪৭৭টি ও মৌলভীবাজারে ২৫১টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

সিলেট জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাখাওয়াত এরশেদ দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, জে’লায় ১ হাজার ৪৭৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬৩ জন প্রধান শিক্ষক কর্ম’রত রয়েছেন। ২১৪ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এছাড়া ৭ হাজার ৪৯৮ জন সহকারী শিক্ষকের স্থলে ৭ হাজার ১৪৭ জন কর্ম’রত আছেন। ৩৫১ জন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। জে’লায় দপ্তরী, নৈশপ্রহরীসহ ১৫০ জন কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে।

সুনামগঞ্জ জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা এস এম আব্দুর রহমান দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, সুনামগঞ্জ জে’লায় ১ হাজার ৪৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮১টি প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। কর্ম’রত আছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। জে’লার ৬ হাজার ৬২১ জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে কর্ম’রত আছেন ৫ হাজার ৯১৯ জন। জে’লায় সহকারীর শিক্ষকের ৭০২টি পদ খালি রয়েছে।

হবিগঞ্জ জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা মোঃ গো’লাম মওলা জানান, জে’লায় ১ হাজার ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৯ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। কর্ম’রত আছেন ৮০৩ জন। এছাড়া ৫ হাজার ৯৯১টি সহকারীর শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্ম’রত আছেন ৫ হাজার ৫১৪ জন। ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

মৌলভীবাজার জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা শামসুর রহমান জানান, জে’লায় ১ হাজার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮২ জন প্রধান শিক্ষক কর্ম’রত রয়েছেন। ২৬৮ টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এছাড়া জে’লায় ৫ হাজার ৪ জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৩ জন কর্ম’রত আছেন। পদ শুন্য রয়েছে ২৫১ জনের।

এদিকে বিভাগের ৪ জে’লায় পিটিআই-এ ১০৩ জন কর্মক’র্তা-কর্মচারীর স্থলে কর্ম’রত রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন। সিলেট বিভাগের পিটিআই অফিসগুলোতে ৬৭ জন কর্মক’র্তা-কর্মচারীর পদ শুন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে পিটিআই সিলেটের সুপারিনটেনডেন্ট জগদীশ চন্দ্র দাশ দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, আমাদের অফিসে সহকারী সুপার, ইন্সট্রাক্টর শিক্ষক সহ ১৭ জন কর্মক’র্তার স্থলে আছেন মাত্র ৬ জন। ১০ কর্মক’র্তার পদ খালি রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারী, কম্পিউটার অ’পারেটর, সহ লাইব্রেরিয়ান, এমএলএসএস, মালি ও সুইপারসহ ১৩ কর্মচারীর পদ শুন্য রয়েছে। এতে কিছুটা হলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তিনি।

পিটিআই অন্যান্য ৩ জে’লার চিত্র প্রায় সিলেট জে’লার মতই। সুনামগঞ্জে ২০ জন কর্মক’র্তা-শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। পদ খালি রয়েছে ১২টি। এছাড়া ১৪ জন কর্মচারীর স্থলে আছেন ৫ জন। খালি রয়েছে ৯টি পদ।
পিটিআই হবিগঞ্জ জে’লার ১৬টি কর্মক’র্তার পদের বিপরীতে কর্ম’রত আছেন মাত্র ৪ জন। ১২ টি কর্মক’র্তার পদ খালি রয়েছে। এছাড়া আরো ৫ জন কমচারীর পদ থাকলেও সবগুলোই শুন্য রয়েছে।

পিটিআই মৌলভীবাজার জে’লায় ১৭ জন ইনস্ট্রাক্টরের স্থলে আছেন মাত্র ৬ জন। খালি রয়েছে ১১টি পদ। ২ জন সহকারী সুপারের পদই খালি। ৩ জন অফিস সহকারীর স্থলে ১ জন কর্ম’রত রয়েছেন, শুন্য রয়েছে ২টি পদ। ১ জন একাউন্টেন্স, ১ জন উচ্চ’মান সহকারী, ১ জন ইঞ্জিনিয়ার প্রশিক্ষক ও ৬ জন এমএলএসএসের পদ পুরোপুরি খালি রয়েছে। কিছু পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দৈনিক জালালাবাদকে জানিয়েছেন পিটিআই মৌলভীবাজারের সুপারিনটেনডেন্ট এ কে এম সাইদুল ইস’লাম।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্ম’রত শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এক শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে পাঠদান করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ধরে রাখা যাচ্ছে না শিক্ষার গুণগতমানও। একজন শিক্ষকের উপর বেশী প্রেসার হচ্ছে। শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুন্যপদে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের জো’র দাবী জানান তারা।

বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, কোন ক্ষেত্রেই শুন্যপদ থাকা কা’ম্য নয়। আর প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সেটা আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোমলমতি শি’শুদের শিক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে দেশে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আম’রা আশা করছি এই প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষকের শুন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। এছাড়া সরকার আবারো শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। তাহলে নতুন সৃষ্ট শুন্যপদ সহ কোন পদই খালি থাকবেনা। প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে লোকবল সঙ্কটের সমাধান করতে সরকার কাজ করছে। সৌজন্যে: দৈনিক জালালাবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: