![]()


অবশেষে নানা বাধা-বিপত্তির পর সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করবে সংস্থাটি। ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)।
করো’নাকালীন এ নির্বাচনে দু’বার তারিখ দিয়েও পেছাতে হয়েছে ইসিকে। প্রথমবার জাতীয় পার্টির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, দ্বিতীয়বার উচ্চ আ’দালতের নির্দেশে। এছাড়া এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ছয় ভোট কর্মক’র্তা করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। মা’রা গেছেন প্রথমবার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মক’র্তা মো. ইস’রাইল হোসেন। যিনি জীবনে প্রথম কোনো নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মক’র্তা হতে পেরেছিলেন। পরবর্তীতে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেটের জে’লা প্রশাসককে।
উচ্চ আ’দালতের স্থগিতাদেশ ওঠে যাওয়ার পর নতুর তারিখ দিয়ে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে ভোটের সামগ্রী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত আছেন ভোটের এলাকায়।
ইসির যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ শূন্য আসনের নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী জিনিসপত্র ভোটগ্রহণ কর্মক’র্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাধারণ কেন্দ্রে ১৮ জন ও ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে মোতায়েন রয়েছে ১৯ জনের ফোর্স। রয়েছে রেব, বিজিবি, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
নির্বাচনী অ’প’রাধ আমলে নিয়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচনী ত’দন্ত কমিটি ও ২১টি ভ্রাম্যমাণ আ’দালত।
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্ম’দ আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্ম’দ মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৩ আসনটি ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা নিয়ে গঠিত। এতে ৩ লাখ ৫০ হাজারের মতো ভোটার রয়েছে।
এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী গত ১১ মা’র্চ মা’রা যান। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে ১৪ জুলাই ভোটের তারিখ দেয় ইসি। ওইদিন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃ’ত্যুবার্ষিকী’ হওয়ায় দলটি ভোট পেছানোর দাবি করে। সেই দাবি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে ২৮ জুলাই ভোটের পুনর্তারিখ দেয় কমিশন। কিন্তু একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আ’দালত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভোটের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোট করার নির্দেশনাও দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে কমিশন ২৩ আগস্ট ভোটের নতুন তারিখ দেন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।