![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম শেষ কর্মদিবসেও দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থেকে আলোচনায় রয়েছেন। দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণার পরদিনই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিয়ে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মাত্র চার দিনে মাজারের ডেগ ও সরকারি দানবাক্সে জমা পড়ে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় মাজারের দুটি ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপিত সরকারি দানবাক্স খুলে নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা গণনা করা হয়। গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা স্বর্ণ পাওয়া যায়।
তবে এ বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি জেলা প্রশাসক। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সিউক ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। অবশিষ্ট অর্থের সংস্থান নিয়ে আলোচনা চলাকালে মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং অতিরিক্ত সরকারি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।
মাজারের আয়-ব্যবস্থাপনা ও দানের অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এদিকে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে ন্যস্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ডিসির প্রত্যাহারের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রোববার ও সোমবার সিলেট নগরীতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার কারণে মো. সারওয়ার আলমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।