সর্বশেষ আপডেট : ১৬ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের সাবেক ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলাম’র দেশে ফেরার তথ্য নেই

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সেলর (মিনিস্টার লোকাল) কাজী এমদাদুল ইসলাম গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে বিদায় নেন। কাগজে-কলমে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় হয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানও করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো—তার দেশে ফিরে আসার কোনো তথ্য নেই।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এমনকি সৌদি আরবের জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটও কাজী এমদাদুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানে না। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর কিংবা নৌবন্দর—কোথাও তার প্রবেশ সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডও নেই।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তার দেশে আগমনের সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট না থাকলেও ‘যোগদান’ গৃহীত হয়েছে। এমনকি জেদ্দা মিশনের ওয়েবসাইট থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং কাউন্সেলরের পদটিকে শূন্য দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার ৩৩ জন যুগ্ম সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে ওএসডি করে। তাদের অধিকাংশই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন কাজী এমদাদুল ইসলাম।

তিনি ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় টুঙ্গিপাড়ায় ইউএনও, ঢাকা জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

সূত্রে জানা যায়, কাজী এমদাদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা এখন বিপুল সম্পদের মালিক বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে। তার সম্পদের উৎস নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কেন তিনি ওএসডি হওয়া সত্ত্বেও আরও তিন মাস দশ দিন সৌদি আরবে অবস্থান করতে পারলেন? ওএসডি হওয়া অন্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব ছাড়লেও, তিনি বহাল ছিলেন পূর্বের পদে। বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরেও নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

এমদাদুল ইসলামকে সিলেটে পাঠানোর প্রেক্ষাপট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ আছে, তার পূর্বসূরি ডিসি নুমেরী জামান নির্বাচনে নিরপেক্ষ আচরণের ইঙ্গিত দেওয়ায় মাত্র সাত মাসেই তাকে সরিয়ে হাসিনা-পরিবারের ঘনিষ্ঠ এমদাদকে ওই পদে আনা হয়।

বর্তমানে, কাজী এমদাদুল ইসলামের অবস্থান ঘিরে প্রশাসনের অভ্যন্তরে ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি রেকর্ডে একজন কর্মকর্তার ‘যোগদান’ দেখানো হলেও তার শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া সেটি কীভাবে সম্ভব? বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও তদন্ত দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: