![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনে বিপর্যস্ত মানুষ যখন আশাহীন হয়ে পড়েছিল, তখন গর্বিত ছাত্র-জনতা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশকে অত্যাচারের শেকল থেকে মুক্ত করেছে। তাদের শাহাদাত বিশ্বে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।”
সোমবার (৫ মে) সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সিলেট জেলার শহীদ পরিবারের মাঝে ২৮ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
তিনি বলেন, “বিপ্লবী আর অবিপ্লবীর সম্মান এক হতে পারে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা বুলেট জনগণের ওপর চালানো মানবাধিকারের পরিপন্থী। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কেবল শান্তনার উদ্যোগ, শহীদদের মূল্য কখনও টাকা দিয়ে পরিশোধ করা যাবে না।”
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন আর মাথা না তোলে, সে জন্য অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় নৈতিকতা ও বিবেককে গুরুত্ব দিতে হবে। এককভাবে কোনো দল নয়, রাষ্ট্রের সব অংশ এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না।”
সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেবজিৎ সিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার-উজ-জামান, সিলেট প্রেসক্লাব-এর সাবেক সভাপতি এবং দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর, বর্তমান সভাপতি ইকরামুল কবির ও তথ্য অফিসের উপপ্রধান মো. মমিনুল হক।
সভায় বক্তারা বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মো. আজরফ, শহীদ পাবেল আহমদের বড় ভাই পিপলু আহমদ, শহীদ সিয়াম আহমদের বাবা আনোয়ার-উজ-জামান তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে দেবজিৎ সিংহ বলেন, “জুলাই আন্দোলনের শহীদগণ জাতির গর্বিত সন্তান। শহীদদের তালিকায় যেন কোনো অশহীদ না ঢুকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে সিলেট জেলার ১৪ জন শহীদ ছাত্র-জনতার পরিবারের মধ্যে ১২ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।