![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তান হত্যার মামলায় জুরি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিচারকাজ ‘মিসট্রায়াল’ ঘোষণা করেছে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির জন্য ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবী কেভিন রেডিংটন।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেডিংটন বলেন, ক্ল্যান্সির পরিস্থিতি, তিনি যে মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং তার ব্যক্তিগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে ট্রাম্প যেন ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করেন।
তিনি বলেন, “আমি আশা করব, প্রেসিডেন্ট সব কিছু এসব বিবেচনা করে ক্ষমার কথা ভাববেন।”
তবে আইনগতভাবে ট্রাম্পের পক্ষে ক্ল্যান্সিকে ক্ষমা করা সম্ভব নয়। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদানের সাংবিধানিক ক্ষমতা মূলত ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী করা হয়েছে। তাছাড়া মিসট্রায়ালের কারণে তিনি এখনো কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্তও হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ক্ষমা বা সাজা কমানোর জন্য তাকে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে নিজেদের বাড়িতে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। নিহতরা হলো ৫ বছর বয়সী মেয়ে কোরা, ৩ বছর বয়সী ছেলে ডসন এবং শিশু ছেলে ক্যালান।
ক্ল্যান্সি তিনটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
তার পাঁচ সপ্তাহের বিচার ৪ সেপ্টেম্বর মিসট্রায়ালে শেষ হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনা করেও ১২ সদস্যের জুরি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন।
মিসট্রায়াল ঘোষণার দিন সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি টেলিভিশনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে খবর রেখেছেন।
ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ডকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, কারাগার বা অন্য কোনো ধরনের শাস্তির বিষয় আসতে পারে।
হোয়াইট হাউস রেডিংটনের নতুন বক্তব্যের বিষয়ে আলাদা মন্তব্য না করে মিসট্রায়ালের দিন ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের দিকে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এদিকে মামলাটি আবার আদালতে গড়ালে নতুন করে বিচার শুরুর পরিবর্তে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন রেডিংটন।
প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজকে ‘কঠোর অবস্থানের প্রসিকিউটর’ হিসেবে উল্লেখ করে রেডিংটন বলেন, বিচার চলাকালে সরকার ও প্রতিরক্ষা পক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণগুলো দেখার পর ক্রুজ যেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।
তবে মিসট্রায়াল ঘোষণার পর ক্রুজ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ল্যান্সির পুনর্বিচার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, আবেগ ও ব্যক্তিগত মতামত সরিয়ে রেখে মামলার তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিচার চলাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি ছিল ক্ল্যান্সি সন্তানদের হত্যার সময় গুরুতর মানসিক বিকারের মধ্যে ছিলেন কি না।
তার আইনজীবীর দাবি, ক্ল্যান্সি ওই সময় গুরুতর মানসিক সংকটে ভুগছিলেন এবং সন্তানদের হত্যার পর নিজেকেও হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। প্রসিকিউশন পক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সক্ষম ছিলেন।
ম্যাসাচুসেটসের আইন অনুযায়ী, কোনো আসামিকে তার অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়ে দায়ী করতে হলে প্রসিকিউশনকে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে হয় যে, ঘটনার সময় আসামি কোনো মানসিক রোগ বা ত্রুটির কারণে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্ত অবস্থায় ছিলেন না।
রেডিংটন বলেন, যারা ক্ল্যান্সির মানসিক অসুস্থতার বিষয়টিকে শুধু ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন, তারা তার প্রকৃত পরিস্থিতি জানেন না। তার দাবি, ক্ল্যান্সির টেক্সট মেসেজ, ডায়েরি ও হাতে লেখা নোটগুলোতে তার মানসিক বিপর্যয়ের প্রমাণ ছিল এবং তিনি বারবার আশপাশের মানুষকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো নেই।