![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল (৫০) পলাতক রয়েছেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আবু মিয়াকে (৩৬) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দেুয়া পৌরশহরের সাউদপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে মামলার আসামি হওয়ার পর বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় পদসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুলের সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাদের ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী।
গত ১ অগাস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে ওই ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা জানা যায় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা।
মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান।