সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি প্রকল্পের তীব্র নিন্দা পশ্চিমাদের

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে প্রায় ১২০০ বসতি নির্মাণের দরপত্র ডেকেছে ইসরায়েল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো।

বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করে অবিলম্বে পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরায়েলের সব বসতিকেই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত ‘ই-ওয়ান’ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে স্থগিত রেখেছিল।

ইসরায়েলের মিত্রদেশ ও ফিলিস্তিনিদের ভাষ্য, ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্পে বসতি গড়া হলে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

বিবৃতিতে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলো ও কানাডা বলেছে, “পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর গুরুতর বিধিনিষেধের কারণে এমনিতেই সেখানে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তটি আরও উদ্বেগজনক।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “এই পরিকল্পনা শুধু আমাদের শান্তি থেকে আরও দূরে নিয়ে যাবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরও দুর্বল করবে।”

পৃথক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, ই-ওয়ান পরিকল্পনা একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ‘হুমকি’ স্বরূপ।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সমালোচনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওই এলাকায় বসবাসরত বেদুইন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি শান্তি সংগঠনগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জ করার পরও বুধবার ইসরায়েলের গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিটের দরপত্র প্রকাশ করে। এটি মূলত গত আগস্টে ইসরায়েলি সরকার অনুমোদিত ৩,৪০১টি আবাসন ইউনিটেরই অংশ।

প্রকল্পটির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পড়েছে।

পরিকল্পনাটি প্রকাশের সময় কট্টর ডানপন্থি ও বসতি স্থাপনকারীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।

দরপত্রে অংশ নেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র কয়েক দিন পর ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের আগে দরপত্র চূড়ান্ত হলে পরবর্তী কোনো সরকারের পক্ষে সেগুলো বাতিল করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

১৯৬৭ সালে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল এ পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে অন্তত ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।

অন্যদিকে, গাজা ও এসব ভূখণ্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা করা ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র আপত্তির পরও ইসরায়েলি সরকার একের পর এক বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে চরম ডানপন্থি ও বসতিপন্থি জোট নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জেরে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বসতি সম্প্রসারণের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ই-ওয়ান প্রকল্পের বিরোধীরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কার্যত একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করবে।

কারণ এটি পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এবং রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্তকারী কেন্দ্রস্থলে কোনো অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলা অসম্ভব করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: