![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে ঘিরে জলঘোলা এবার পরিষ্কার হয়েছে, অবশেষে তার দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যদিও এই সিদ্ধান্তের শুরুটা হয়েছিল আরও এক বছর আগে।
গত বছরের ২১ এপ্রিল বিসিবির চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে পদত্যাগপত্র জমা দেন সৈকত। তবে তখন সেটি গ্রহণ করেনি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। বরং গত এক বছর তিনি চুক্তির আওতায় থেকেই নিয়মিত বেতন পেয়েছেন মাসপ্রতি প্রায় ২লাখ টাকা করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে তার পদত্যাগ কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।
আইসিসির এলিট আম্পায়ার হবার কারণে আম্পায়ার সৈকত আইসিসি থেকে বেতন ও ম্যাচ ফির টাকা পান। আর ঐ ব্যস্ততার কারণে তিনি বিসিবির ঘরোয়া লিগ সিরিজগুলোতেও নিয়মিত সময় দিতে পারছিলেননা। তাই সৈকত নিজেও বিসিবির চুক্তিতে থাকতে আগ্রহী ছিলেননা। তবে দেশের ক্রিকেটে নিয়মিত আম্পায়ারিং চালিয়ে যেতে চান তিনি। বর্তমানে আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বে সুনাম কুড়াচ্ছেন আর বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ৩৭ জন আম্পায়ার, ৮ জন ম্যাচ রেফারি, ১ জন কোচ ও ৮ জন স্কোরারের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি নবায়ন করতে যাচ্ছে। যে তালিকায় নেই আইসিসি এলিট প্যানেলের একমাত্র বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত। বিসিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিওবা বিসিবির নতুন চুক্তিতে শরফুদ্দৌলাকে না রাখার কারণ স্পষ্ট করে কেউই বলেননি। তবে গত বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরফুদ্দৌলাকে বোর্ড না রাখতে পারে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। যার সূত্রপাত শরফুদৌল্লার পদত্যাগ ইস্যু।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন শরফুদ্দৌলা। কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্র তৎকালীন বোর্ড গ্রহণ করেনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তির ইস্যুতে বোর্ডের হস্তক্ষেপ মোটেও ভালোভাবে নেননি। ক্ষোভ আর অপমান থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে আর আম্পায়ারিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপর বোর্ডকে এপ্রিলের শুরুতেই চিঠি পাঠান।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহামেডানের ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে আম্পায়ারদের নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় তাকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়ার পাশাপাশি আরও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল মোহামেডান অধিনায়কের। কিন্তু এক ম্যাচ পরই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে সুপার লিগের ম্যাচে খেলেন তাওহীদ। এ ঘটনায় দেশের আম্পায়ারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। যার ফলশ্রুতিতে শরফুদ্দৌলা পদত্যাগ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি শেষ করেন।
কিন্তু বিসিবি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বেতন দিয়ে যায়। নতুন করে এরপর তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন হয়নি। আম্পায়ার ও স্কোরার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ‘যদি চুক্তি নবায়ন না হয়ে থাকে তাহলে সে অটোমেটিক্যালি আর বেতন পাবে না। এটার মানে এই না যে রেজিগনেশন একসেপ্ট হয়েছে। আমি যতদূর জানি উনার চুক্তি এপ্রিল পর্যন্ত ছিল। এটা সম্ভবত রিনিউ হয়নি। চুক্তি নবায়ন না হওয়া মানেই তো বাতিল হয়ে যাওয়া। আমার ধারণা এটাই হয়েছে।’
পদত্যাগপত্র নিয়ে তার সাফ কথা, ‘এটা তো কমন সেন্স। গত বছর রেজিগনেশন দিয়েছে, এরপরও যদি ৫ মাস বেতন পায় তার মানে রেজিগনেশন ৫ মাস পরে একসেপ্ট হয়? অবশ্যই না। এটা বলার জন্য অন্য কিছু লাগে না। এটা হতে পারে যে চুক্তি নবায়ন হয় নাই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত তার চুক্তি নবায়ন না করার। যেখানে আম্পায়ার বিভাগের কোনো হাত নেই।’
এদিকে পদত্যাগপত্র গ্রহণের যে খবর ছড়ানো হয়েছে তার কিছুই জানেন না শরফুদ্দৌলা। এপ্রিলের পর তিনি বোর্ডের থেকে বেতন পাননি। এরপর নিশ্চিত হয়ে যান, বোর্ড তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি। বিষয়টি নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলারও প্রয়োজনও অনুভব করেননি এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ার।