![]()


ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধী একটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি এই টিকাটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। কোম্পানির ভারতীয় শাখা সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।
ডেঙ্গু মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগগুলোর অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে রেকর্ড ১ কোটি ৪৪ লাখ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় এবং এতে প্রাণ হারান ১১ হাজার ২০১ জন। একই সময়ে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪২৫ জন এবং মারা যান ২৩৩ জন।
জাপানি প্রতিষ্ঠান তাকেদার ভারতীয় শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।
নতুন অনুমোদন পাওয়া টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। নতুন ওই টিকার নাম কিউডেঙ্গা। চার থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
বর্তমানে বিশ্বের ৪৩টি দেশে এই টিকার অনুমোদন রয়েছে। শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ১৮ মাস পর টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
ভারতে টিকার উৎপাদন বাড়াতে ২০২৪ সালে দেশটির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োলজিক্যাল ই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে তাকেদা।
এই টিকাটি দুটি ডোজে দেওয়া হয়। প্রতিটি ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হয়। আগে কখনো ডেঙ্গু হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছাড়াই এই টিকা নেওয়া যাবে।
এটি আগে বাজারে থাকা আরেকটি ডেঙ্গু টিকা সানোফির ডেংভ্যাক্সিয়ার থেকে ভিন্ন। পূর্ববর্তী টিকাটি কেবল আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী ছিল। কারণ যাদের আগে ডেঙ্গু হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ ছিল।
ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দিব্যা কে. এস. বলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার পরই ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তার মতে, এই টিকা ডেঙ্গুর জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে মশার মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ চলতে থাকলে শুধু টিকা দিয়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
এদিকে তাকেদার ভারতীয় শাখা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক আরেকটি টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও নিজস্ব ডেঙ্গু টিকা নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. আনন্দ কুমার জানান, তাদের টিকা বর্তমানে মধ্যবর্তী ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগের ডেঙ্গু টিকাগুলো নিয়ে দেখা দেওয়া নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং পরীক্ষার জন্য এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন, যাদের আগে কখনও ডেঙ্গু বা এ ধরনের ভাইরাসে সংক্রমণ হয়নি এসব কারণে নতুন ডেঙ্গু টিকা উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বে মূলত তিনটি টিকা ব্যবহৃত বা অনুমোদিত রয়েছে। জাপানের কিউডেঙ্গা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ডেংভ্যাক্সিয়া এবং ব্রাজিলে অনুমোদিত বুটানটান-ডিভি।