সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় মোড়ানো সিলেটের বিসিক

তামিম মজিদ :

সিলেটের খাদিমনগর ও গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে পরিবেশ দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্প কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবে শিল্পাঞ্চল দুটিতে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে গত তিন বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানানো হলেও বাস্তবে এর সুফল চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অবস্থা গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতেও। সেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের দাবি করা হলেও শিল্প এলাকার ভেতরে জলাবদ্ধতা, নোংরা ড্রেন ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিল্পনগরী দুটির ভেতরের সরু ড্রেনেজ ব্যবস্থায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। অনেক কারখানায় ইনফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) না থাকায় শিল্প বর্জ্য সরাসরি খোলা ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। এতে পুরো এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত সিলেট–তামাবিল মহাসড়কের পাশের খালটিতে দেখা গেছে প্লাস্টিক, বোতল ও শিল্প বর্জ্যের স্তূপ। কালো দূষিত পানির কারণে আশপাশের বাতাসও দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। ফলে কারখানার কর্মী ও পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিক এলাকার খাল দিয়ে শিল্প বর্জ্য বংশী নদীতে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে তা কুশিখালী হয়ে সুরমা নদীতে মিশে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

শিল্প আইন অনুযায়ী একটি শিল্প প্লটের ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ৮ শতাংশে কারখানা ও ২ শতাংশে ইটিপি নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে খাদিমনগর ও গোটাটিকর বিসিকের বেশিরভাগ কারখানায় এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। খাদিমনগরে ৭৪টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১০টি কারখানায় ইটিপি রয়েছে। বাকিগুলোর বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে গিয়ে পড়ে। গোটাটিকরে ৭২টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশ দূষণের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ অনুযায়ী এ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানায় উন্নীত হতে পারে। তবে বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরীর কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে বর্তমানে ৭৪টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৭১টিতে উৎপাদন চলছে। এসব শিল্পকারখানায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে এবং বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়। এতে প্রায় ৫ হাজার ৭৩০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

অন্যদিকে ১৯৭৮ সালে গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীর যাত্রা শুরু হয়। এখানে বর্তমানে ৬৬টি কারখানায় উৎপাদন চলছে। এর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠান মিষ্টি ও খাদ্যজাত পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে বছরে প্রায় ২৩০ কোটি টাকার উৎপাদন হচ্ছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

গোটাটিকর বিসিক শিল্পমালিক সমিতির প্রতিনিধি মঈন উদ্দিন বলেন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টি হলেই নোংরা পানি কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।

তবে বিসিক সিলেট জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ম. সুহেল হাওলাদার বলেন, বিসিক মূলত শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক এবং কোনো কারখানা বন্ধ না হোক, সেটাই তাদের লক্ষ্য। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর দেখভাল করে থাকে। তিনি জানান, গত তিন বছরে খাদিমনগর বিসিকে ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ৩৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: