![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
আনন্দমুখর পরিবেশে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’-এর অষ্টম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ নভেম্বর (রোববার) পূর্ব লন্ডনের রিজেন্টস লেক ব্যাংকুয়েটিং হলে দিনব্যাপী এ আয়োজনটি হয়। বিদায়ী কমিটির সভাপতি প্রশান্ত লাল দত্ত পুরাকায়স্থ বিইএম এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দীন ইকোর সঞ্চালনায় সভা শুরু হয়।
১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি এবং অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নিয়মিতভাবে বৃত্তি প্রদান ও ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফর রহমান। সভাপতি প্রশান্ত লাল দত্ত পুরাকায়স্থ তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান। মেয়র বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গণতান্ত্রিক চেতনার বাতিঘর। বিদেশে থেকেও আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধন অটুট রাখতে হবে।”
তিনি সন্তানদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে, সেটাই হবে প্রকৃত সফলতা।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহগীর বখত ফারুক এবং সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান ও ব্যারিস্টার নাজির উদ্দিন চৌধুরী ২০২৫-২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নাম ঘোষণা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভোট গ্রহণ ছাড়াই ৩২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
নবনির্বাচিতরা হলেন:
সভাপতি: সিরাজুল বাসিত চৌধুরী
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মেসবাহ উদ্দীন ইকো
সহ-সভাপতি: নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, রীপা সুলতানা রাকীব, মির্জা আসাব বেগ
সাধারণ সম্পাদক: ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামরুল হাসান (এম কিউ হাসান)
যুগ্ম সম্পাদক: ব্যারিস্টার মাহারুন আহম্মেদ মালা, ব্যারিস্টার কামরুল হাসান, ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান
কোষাধ্যক্ষ: সৈয়দ জাফর
যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ: ফাইজুল হক রিপন, কনকন কান্তি ঘোষ
দপ্তর সম্পাদক: ফখর উদ্দিন আহমেদ
সাংগঠনিক সম্পাদক: সৈয়দ হামিদুল হক
যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক: সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, খালিদ ইয়াহইয়া
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এ্যারিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা
প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সম্পাদক: সৈয়দ এনামুল ইসলাম
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আহমেদ
কার্যকরী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইসমাইল হোসেন, মোস্তফা কামাল মিলন, মারুফ আহমেদ চৌধুরী, প্রশান্ত দত্ত পুরাকায়স্থ, আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম, রফিক আহমেদ, কামরুল হাসান, সবিতা শামশেদ, চন্দন মিয়া, খাদিজা আহমেদ বন্যা, মাহমুদা চৌধুরী ও কল্পনা কাজী।
বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এজিএম-এ সদস্যরা অংশ নেন পরিবার-পরিজনসহ। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দীন ইকো সংগঠনের দুই বছরের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর আর্থিক প্রতিবেদন দেন এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান সপ্তম এজিএমের মিনিটস পাঠ করেন।
সভায় প্রয়াত সদস্য রাজিয়া বেগমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রয়াত শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
২০১৭ সাল থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসছে। গত বছর ২৫ জনকে এবং চলতি বছর ৫০ জন শিক্ষার্থীকে এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। সদস্যরা আগামী বছর আরও ১৫০ শিক্ষার্থীকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রীপা সুলতানা রাকীব, এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা, মিজানুর রহমান ও সৈয়দা সুবর্ণা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শুরুতেই মাহফুজা রহমানের লেখা কবিতা “আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয়। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন রীপা সুলতানা রাকীব, কাজী কল্পনা, সহোদর শিল্পী সায়ীদ জোবায়ের ও সায়ীদ তারেক, কে জি বি কনক, নীলা নিকি খান ও সৈয়দা তামান্না। শিশু শিল্পী প্রাপ্তি দেব সরকারের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এজিএম ও নির্বাচন উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়, যার সম্পাদকীয় কমিটিতে ছিলেন প্রশান্ত দত্ত পুরাকায়স্থ, মেসবাহ উদ্দীন ইকো, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, এম কিউ হাসান, সৈয়দ জাফর ও মোস্তফা কামাল।
নবনির্বাচিত সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান সংগঠনের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং উপস্থিতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
দিনব্যাপী এই উৎসব শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতিচারণা করে পরিপূর্ণ আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।