![]()


লন্ডন প্রতিনিধি ::
যুক্তরাজ্যে বাঙালি অভিবাসনের পথিকৃৎ আয়ুব আলী মাস্টারের স্মরণে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে একটি স্মারক প্ল্যাক উন্মোচন করা হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ২ নভেম্বর ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটের ড্রেউয়েট হাউসের সামনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এখানেই ১৯৪০-এর দশকে আয়ুব আলী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইন্ডিয়ান সিমেনস ওয়েলফেয়ার লিগ—যা ব্রিটেনে বাঙালি নাবিক ও অভিবাসীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন টাওয়ার হ্যামলেটসের কনজারভেশন অফিসার আন্না জুকেল্লি। এরপর স্বাধিনতা ট্রাস্ট-এর সভাপতি জুলি বেগম আয়ুব আলীর অবদান তুলে ধরে বলেন, “তিনি না থাকলে আজকের ব্রিটিশ-বাংলা কমিউনিটি গড়ে উঠত না।”
পারিবারিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন আয়ুব আলীর নাতনি পারুল হুসেন। তিনি বলেন, “আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের, কারণ আমার নানা কেবল আমাদের পরিবারের নয়, সমগ্র প্রবাসী বাঙালি সমাজের অনুপ্রেরণা।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর কামরুল হোসেন। তিনি প্ল্যাক উন্মোচন করে বলেন, “প্রথম প্রজন্মের সেই সাহসী অভিবাসীরা না থাকলে আজকের সমৃদ্ধ বাঙালি সমাজ ব্রিটেনে গড়ে উঠত না। তাদের স্মৃতি আমাদের ইতিহাসের অংশ।”
আয়ুব আলী মাস্টার ১৯১৯ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে আসেন। টিলবেরি ডকসের মাধ্যমে লন্ডনে পা রেখে তিনি পরে অনেক বাঙালির ইউরোপে আগমনের পথ তৈরি করে দেন। তিনি প্রথমে আমেরিকায় গিয়েছিলেন, পরে লন্ডনে স্থায়ী হন এবং ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শাহজালাল কফি হাউস’ ও ‘অরিয়েন্ট ট্রাভেল এজেন্সি’ একসময় বাঙালিদের মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
ইংরেজি ও বাংলা—উভয় ভাষায় দক্ষতার কারণে তিনি ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮০ সালে তিনি বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেন এবং সিলেটের জগন্নাথপুর উপজেলার আসল গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হন।
প্ল্যাকটি স্থাপন করা হয়েছে সেই মহান ব্যক্তির স্মৃতিতে, যিনি যুক্তরাজ্যে বাঙালি অভিবাসনের ইতিহাসে প্রথম আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন।