![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে—জাতীয় কবি, বিদ্রোহের মহান পুরুষ, বাংলা সাহিত্যের এক অমর কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। ১৮৯৯ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর জন্মই যেন ছিল এক বিদ্রোহের ঘোষণা, যার প্রতিধ্বনি আজও বাঙালির হৃদয়ে গুঞ্জরিত হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম শুধুই একজন কবি নন, তিনি একাধারে ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক এবং একজন সত্যিকারের সমাজচিন্তক। তিনি ছিলেন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামী কণ্ঠস্বর, যিনি কলম দিয়ে লড়াই করেছিলেন দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে।
বিদ্রোহী কবির শক্তিশালী কণ্ঠ
নজরুল ইসলামের “বিদ্রোহী” কবিতা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সৃষ্টি। ১৯২২ সালে প্রকাশিত এই কবিতার মাধ্যমে তিনি এক নতুন ধারা চালু করেন—এক সাহসী, দুর্বার, সংগ্রামী কণ্ঠ, যে কেবল প্রশ্ন তোলে না, উত্তাল করে তোলে শতাব্দী প্রাচীন অন্যায়কে। তিনি লিখেছিলেন:
“বল বীর—
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নতশির সেই শির শত্রুর।”
এই লাইনগুলো শুধু কবিতা নয়, এক প্রতিবাদের ঘোষণাপত্র।
বিদ্রোহের পাশাপাশি নজরুল প্রেম, মানবতা ও সাম্যের কবি। তাঁর রচনায় হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের অজস্র বার্তা পাওয়া যায়। তিনি গেয়েছেন:
“মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।”
এই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক, যখন সমাজ নানা বিভক্তিতে জর্জরিত।
নজরুল ইসলামের সুর ও সংগীত বাংলা গানের ভুবনে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করে। তিনি প্রায় চার হাজার গান রচনা ও সুরারোপ করেন, যেগুলোর একটি বৃহৎ অংশ ‘নজরুলগীতি’ নামে পরিচিত। তাঁর গান বাংলা সংস্কৃতিতে আজও অমূল্য সম্পদ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ঢাকায় এনে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বিদ্রোহী কবি এবং তাঁকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে।
আজকের দিনে কাজী নজরুল ইসলাম কেবল স্মরণীয় নন, তিনি সময়ের থেকেও বড় এক চেতনার নাম। বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও মুক্তির অনন্য কণ্ঠস্বর আজও আমাদের সামনে পথ দেখায়। তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই এই মহান কবিকে, যিনি আমাদের আত্মমর্যাদার, সাহসের এবং সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে আছেন।