সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে আলোচনায় জামান

ওয়েছ খছরু:এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। বিএনপি’র আ’লোচিত নেতা। এক নামেই সিলেটে রয়েছে পরিচিতি। নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর সিলেট বিএনপি’র রাজনীতির একাংশের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই। সেই জামান এবার পদত্যাগ করলেন দল থেকে। এজন্য তাকে নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনার শেষ নেই সিলেটে। জামানের বক্তব্য নিয়েও হচ্ছে তোলপাড়। অ’প্রিয় সত্য কথা বলতে গিয়ে বললেন- ‘পূর্ব সিলেট এখনো ডেয়ারিং।

বাঘের লেজ নিয়ে কান চুলকাবেন না।’ সিলেটের আ’লোচিত এ নেতা এডভোকেট জামান পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিলেটের সভাপতি। তার হাত ধরেই সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক দল শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারও আগে ছাত্রদল ও যুবদলকেও একইভাবে সিলেটে শক্তিশালী করতে কাজ করেন জামান। ফলে সিলেট বিএনপিতে আধিপত্য বজায় রয়েছে। বর্তমান সরকারের শাসনে কয়েক বছর নির্বাসিত ছিলেন জামান। তার নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫টি মা’মলার আ’সামি ছিলেন তিনি। ইলিয়াস আলী গু’মের পর থেকে আ’ন্দোলন করতে গিয়ে তিনি মা’মলায় আ’সামি হতে শুরু করেন। এরপর নানা সময় তার বি’রুদ্ধে মা’মলা করা হয়। তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর পর জামান সম্প্রতি সব মা’মলা থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন। মুক্ত বাতাসে তিনি ফের দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় করার কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সিলেটের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে ফের ক্ষুব্ধ হলেন জামান। মূল দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হলেও তাকে না জানিয়ে কমিটি দেয়া হয়েছে সিলেটে। এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভাগীয় কমিটির নেতারা যে মতামত দিয়েছিলেন সেটিরও প্রতিফলন হয়নি। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এবার সিলেটের স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হয়েছে।

জামান দাবি করেন- ‘দলের জন্য আ’ন্দোলন করতে গিয়ে যারা সংসার ত্যাগী হয়েছে, মা’মলায় আ’ক্রান্ত হয়েছে তারা পদ পদবি পায়নি। আবার অনেকেই লবিং করে পদবি ভাগিয়ে নিয়েছে। এটা তো হতে পারে না। যাদের অবদান রয়েছে তারাই দল চালাবে।’ এদিকে, দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইস’লাম আলমগীরের কাছে বুধবার রাতে পাঠানো পত্রেও জামান তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। জামান পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন, ‘আমি কখনোই হালুয়া রুটির ভাগ নেইনি, কিংবা অ’নৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।’

মহাসচিবকে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে জামান উল্লেখ করেন, ‘আজকে অ’ত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে জানতে ইচ্ছে করে; আপনার দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠিটা কি? যারা দেশ ও দলকে ভালোবাসে, জীবন বাজি রাখে, দুর্দিনে যারা বিশ্বস্ত থাকে, ব’ন্দুকের নলের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, কমিটিতে তাদের পদ পাওয়া উচিত, নাকি যারা লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সবকিছু হাসিল করে তাদের পাওয়া উচিত? যে দলটাকে ভালোবেসে তিল তিল করে বিনির্মাণ করেছিলাম আজকে সেই দলে আম’রাই অনাহুত। আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তুলেন কিন্তু নিজের অন্তরাত্মাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন কি- আপনারা আপনাদের নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কিনা?’

পদত্যাগ পত্রের শেষ পর্যায়ে জামান উল্লেখ করেন, ‘আমা’র জীবনের ৩৬টি বছর আপনাদেরকে আল্লাহর ওয়াস্তে সদকা দিয়ে দিলাম।’ পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জামান দলীয় রাজনীতি ছেড়ে দিলেও রাজনীতিতে থাকবেন বলে জানান। রাজনীতি করতে হলে কোনো দলের লেজুরবৃত্তির প্রয়োজন হয় না বলে জানান তিনি। এজন্য তিনি মানুষের কল্যাণে, মানুষের জন্য রাজনীতি করার কথাও উল্লেখ করেন। এবং এই রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হবেন বলে জানান। এদিকে, জামানের এই পদত্যাগ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় হলেও এখনো মুখবন্ধ রয়েছে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের। তবে, জামানের পদত্যাগ ঘোষণার সময় মঞ্চে ছিলেন বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক। জামান পদত্যাগ করলেও আব্দুর রাজ্জাক এখনো দলে রয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ইলিয়াস আলী গু’মের পর সিলেট বিএনপিতে দীর্ঘদিন অ’ভিভাবকত্ব করেন প্রবীণ নেতা এমএ হক। তার মৃ’ত্যুর পর এখন অ’ভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের শামীম ও কেন্দ্রীয় সদস্য শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। গতকাল বিকাল পর্যন্ত তারা এখনো প্রকাশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, জামানের এই পদত্যাগ সিলেট বিএনপির জন্য অশনি সংকেত। কারণ- এই পদত্যাগের সঙ্গে সিলেটে অবস্থান করা অনেক কেন্দ্রীয় নেতার সম’র্থন রয়েছে। তাদেরকে ডিঙিয়ে সিলেট বিএনপিতে নানা সময় নানা ঘটনা ঘটছে। এতে দল বিতর্কিত হওয়া ছাড়াও শক্তিহীন হয়ে পড়ছে। এজন্য তারা সিলেট বিএনপির ভাঙন ঠেকিয়ে ঐক্য ফেরাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: