সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৩ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে করো’না চিকিৎসার নাজুক অবস্থা, মুমূর্ষু রোগীদের বাঁ’চাতে মিলছে না আইসিইউ বেড

করো’না মহামা’রির এবারের ঢেউয়ে সিলেট বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে চাপ। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাধারণ বেডে কোনোমতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া গেলেও মুমূর্ষু রোগীদের বাঁ’চাতে মিলছে না প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড। প্রিয়জনকে বাঁ’চাতে স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতা’লে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আইসিইউ সংকটের পাশাপাশি অ’তিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর এসব কারণে বিভাগে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সিলেট বিভাগের কোটি মানুষের জন্য সরকারিভাবে রয়েছে মাত্র ৩০টি আইসিইউ বেড। যার ১৬টি সিলেটের ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহম’দ হাসপাতা’লে। আর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে আছে মাত্র আটটি এবং মৌলভীবাজারের সদর হাসপাতা’লে আরও ছয়টি আইসিইউ বেড রয়েছে।

সরকারি হাসপাতা’লের এসব আইসিইউ বেডের বাইরে সিলেট নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতা’লেও করো’না রোগীদের জন্য কিছু আইসিইউ বেড রয়েছে। এরমধ্যে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে করো’না রোগীদের জন্য ১৮টি, মাউন্ড অ্যাডোরা হাসপাতা’লে ৯টি ও নুরজাহান হাসপাতা’লে আরও ১১ টি আইসিইউ বেড রয়েছে।

তবে এসব হাসপাতা’লে আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তি করলে গুনতে হয় লাখ লাখ টাকা। যা সাধারণ মানুষের সাম’র্থ্যের বাইরে। রোগীর চাপ বাড়ায় ও আইসিইউ সংকটে বেসরকারি হাসপাতা’লের এসব বেডও খালি নেই বলে জানা গেছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কেউ মা’রা গেলে অথবা সুস্থ হলেই কেবল মিলছে বেড।

সিলেটে একটি আইসিইউ বেডের জন্য করো’নাক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের স্বজনদের রীতিমতো মাতম চলছে। প্রিয়জনকে বাঁ’চাতে একটি আইসিইউ বেডের জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতা’লে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।

এদিকে গত বুধবার (৭ জুলাই) সিলেটে করো’না আ’ক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এই সময়ে করো’না শনাক্ত হয়েছে ৩৬২ জনের। এর আগে গত সোমবার সিলেটে আট জন মা’রা যান। তবে মৃ’ত্যু ও শনাক্ত বাড়লেও সিলেটে বাড়ছে না আইসিইউ শয্যা। এমনকি বাজেট না থাকায় কাঠামো নির্মাণ হলেও থমকে আছে ওসমানী হাসপাতা’লের আইসিইউ ইউনিটের আরও ১০ শয্যার কাজ।

সমানী হাসপাতা’লের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, আরও ১০ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ থেকে এটার কাঠামোগত কাজ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র্রীয় অক্সিজেন বা যন্ত্রাংশের বাজেট না থাকায় তা এখনই চালু করা যাচ্ছে না।

করো’না ডেডিকে’টেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতা’লের ভা’রপ্রাপ্ত আরএমও ডা. সৈয়দ নাফি মাহদি বলেন, হাসপাতা’লে আইসিইউ ও সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি। কোনও শয্যা খালি নেই। তবে প্রতিদিন কয়েকজন হাসপাতাল থেকে ছাড় পেলেও সাথে সাথে রোগী ভর্তি হচ্ছে। আর করো’নায় যারা অ’সুস্থ, তারা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি হচ্ছেন। শামসুদ্দিনে বর্তমানে রোগীর এত চাপ যে, করো’না ইউনিটের ১০০ বেডের বাইরে আরও তিনটি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ১০৩ টি বেডই এখন পরিপূর্ণ। আর আইসিইউ’র ১৬টি বেড গত কয়েকদিন ধরেই পরিপূর্ণ। প্রতিদিন ২-৩ জন মুমূর্ষু রোগীকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদেরকেই পীড়া দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গেল প্রায় ১৫ দিন থেকেই আমাদের এখানে কোনও আইসিইউ বেড খালি নেই। এমনকি সিলেটের কোথাও খালি আছে বলেও আমা’র জানা নেই। প্রতিদিন আমাদের কাছে অসংখ্য কল আসছে আইসিইউর জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও ফোন দিয়ে চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আম’রা দিতে পারছি না।

স্থাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পুরো সিলেট বিভাগের সরকারি হাসপাতা’লে আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা রয়েছে ৪৪৮টি। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম। এরমধ্যে সিলেট বিভাগের একমাত্র করো’না ডেডিকে’টেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতা’লে রয়েছে ১৬টি আইসিইউসহ ১০০ শয্যা। এছাড়া খাদিম শাহপরাণ হাসপাতা’লে ৩১, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতা’লে ১০০, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতা’লে ৬টি আইসিইউ শয্যা মিলে ৫৬টি ও রাজনগর হাসপাতা’লে ৩০টি রয়েছে। তবে এসব হাসপাতা’লের মধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে করো’না ডেডিকে’টেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতা’লে।

এদিকে করো’না রোগী বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেনের ওপরও চাপ বেড়েছে। ঠিকমতো সরবরাহ না থাকলে যেকোনও সময় ভ’য়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে শ’ঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায়।

তিনি বলেন, মা’রাত্মকভাবে করো’না আ’ক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেনের খরচ বেড়েছে। অক্সিজেনের বেশি খরচ হওয়ার কারণে অক্সিজেন প্লান্টগুলো চাপ নিতে পারছে না। সেজন্য সিলেটে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিতে পারে। তবুও অক্সিজেনের সংকট যাতে না হয় সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি সিলেটে অক্সিজেনের সংকট হয় তাহলে ভ’য়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সিলেটের করো’না ডেডিকে’টেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতা’লে ১০ হাজার ও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে ৩০ হাজার লিটার অক্সিজেনের প্লান্ট থাকলেও নিয়মিত অক্সিজেনের যোগান মিলছে না। দেশের অন্যান্য স্থানে অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অক্সিজেন কোম্পানিগুলো লকডাউন ও পরিবহনের অজুহাত দেখিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণের অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারছে না। অক্সিজেন চেয়ে একাধিকবার তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    58
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: