![]()



অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে লুণ্ঠিত ও ছিনতাইকৃত মালামাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুযোগ নিয়ে পাতা হচ্ছে এ প্রতারণার ফাঁদ। ইতিমধ্যে সিলেট মহানগর পু’লিশ গ্রে’প্তার করেছে, এ ধরণের অ’প’রাধী চক্রের বেশ কিছু সদস্যকে। বাকী’দের গ্রে’প্তারের প্রক্রিয়া চলছে। পু’লিশ বলছে, অনলাইনে মালামাল কেনার আগে সচেতনতা বাড়াতে, নাহলে এ সকল মালামাল অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করে ক্রেতারা হতে পারেন প্রতারিত ও মা’মলার আসামী।
সোমবার (১৪ জুন) মহানগর পু’লিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বি’জ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, মোগলাবাজার থা’না পু’লিশ চু’রি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়কারী অ’প’রাধীচক্র শনাক্ত করে ছিনতাইকারীচক্র এবং ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা উ’দ্ধারসহ ছিনতাইকারী চক্রের ৭ জন গ্রে’প্তার করেছে।
এতে বলা হয়, ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৫ টা থেকে সাড়ে ৬ টার মধ্যে দক্ষিণ সুরমা থা’নাধীন কদমতলী থেকে সিলেট জজ কোর্টের সহকারী আইনজীবী আতিকুর রহমান কুচাই যাওয়ার পথে একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন। সেই সিএনজিতে ড্রাইভা’রসহ মোট ৫ জন লোক ছিলেন। সিএনজি অটোরিকশাটি কদমতলী থেকে কুচাই যাওয়ার পথে সিলেট-জকিগঞ্জ মহাসড়কে গোটাটিকর পৌঁছামাত্র সিএনজি অটোরিকশার ভিতরে থাকা ৩ জন মিলে আতিকুর রহমানের শার্টের কলার ধরে চাকুর ভ’য় দেখিয়ে তার প্যান্টের পকে’টে থাকা মানিব্যাগ হতে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং তার ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আতিকুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজি থেকে রাস্তার পাশে ফেলে তারা চলে যায়। ঘটনায় পর মোগলাবাজার থা’নার মা’মলা (নং-০২, তাং ০৩/০১/২০২১খ্রিঃ ধারা-৩৯২) রুজু হয়।
এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুলাই গো’পন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে মো. শামীম মিয়া (২২) নামে একজনকে আ’ট’ক দক্ষিণ সুরমা থেকে আ’ট’ক করে পু’লিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনা সাথে জ’ড়িত থাকার কথাটি স্বীকার করে। সে জানায়, গত ২ জানুয়ারি সোলেমান (২২) রুবেল (২৪) ছাইদ উল্লাহ (২১)সকলেই মা’দক সেবী। এদের মধ্যে ছাইদ উল্লাহ সিএনজি অটোরিকশা চালক। তারা মা’দকের টাকা সংগ্রহের জন্য প্রায় সময়ই সিএনজি যোগে যাত্রীদের শহরের বিভিন্ন স্থান হতে কৌশলে সিএনজি অটোরিকশাতে উঠিয়ে সুযোগমত তাদের সর্বস্ব লুট করে।
পরে আ’ট’ককৃত শামীম মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১২ জুন নগরের বিভিন্ন এলাকা হতে তাদের সহযোগী সোলেমান, রুবেল ও আইনুল হককে দক্ষিণ সুরমা থা’নাধীন গ্রে’প্তার করা হয়। পরে আইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার ক্রয়কৃত মোবাইলটি সে বেলাল আহম’দের কাছে বিক্রয় করেছে। আইনুল হকের দেওয়ার তথ্য মতে বেলাল আহম’দকে সিলেট কোতোয়ালি থা’নাধীন সোবহানীঘাট এলাকা হতে আ’ট’ক করে মোবাইলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল আহম’দ জানায় মোবাইলটি সে চো’রাই মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়কারী আইয়ুব আলী ও তার বড় ভাই আব্দুস শহীদের কাছে বিক্রি করেছে।
পরে বেলাল আহম’দের দেওয়ার তথ্য মতে আইয়ুব আলীকে মোগলাবাজার থা’নাধীন শি’ববাড়ি এলাকা থেকে গ্রে’প্তার করা হয়। তাকে মোবাইলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে মোবাইল ক্রয়ের বিষয়ে স্বীকার করে। তবে সে এবং তার আপন বড় ভাই আব্দুস শহীদ চো’র, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন লোকজনদের নিকট হতে প্রতিদিনই অ’বৈধ ভাবে আনা মোবাইল ক্রয় বিক্রয় করে থাকে, এমন তথ্য দেয়।
তারা আরও তথ্য দেয়, নগরীর বিভিন্ন জায়গা হতে চু’রি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ক্রয় করে অনলাইনে ফেইক আইডি তৈরি করে বিক্রয়ডট’কমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা বিক্রয় করে থাকে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চু’রি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন বিক্রয় করার পরপরই উক্ত অ’প’রাধীচক্রটি নিজেদের অ’প’রাধ লুকানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আইডি ডিজেবল (ডিলিট) করে দিয়ে নতুন আরেকটি আইডি তৈরি করে নতুনভাবে চু’রি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন বিক্রয় করার বিজ্ঞাপন প্রদান করে। এভাবেই দীর্ঘদিন যাবত তারা সিলেট শহরে চু’রি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে নিরীহ মানুষদের প্রতারিত করছে।