সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চিকিৎসার নতুন ধাপে লন্ডনে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

স্বজন-সহকর্মীদের ভালোবাসায় এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশের মাটিতে কাটিয়ে চিকিৎসার জন্য ফের যুক্তারাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে অভিনেতা ঢাকা ছাড়বেন বুধবার। ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে এসেছিলেন চলতি মাসের ৩ তারিখ।

লন্ডনে মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত অভিনেতার চিকিৎসায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন ধাপ। কারণ টিউমারটির অবস্থান ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘মস্তিষ্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুসংযোগে’ হওয়ায় চিকিৎসকেরা পুরোপুরি অপসারণ করতে পারেননি। তবে নতুন করে ‘ক্যান্সার ছড়ায়নি’ বলে নিশ্চিত করেছেন লন্ডনের চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার চলবে ‘ইমিউনোথেরাপি’। এসব কথা গ্লিটজকে জানিয়েছেন অভিনেতার ছোট ছেলে এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়।

নিজের বাড়িতে এবং আপনজনদের সান্নিধ্যে এই কয়েকটা দিন ইলিয়াস কাঞ্চন মানসিকভাবে ‘কিছুটা স্বস্তি ‘পেয়েছেন বলে ভাষ্য তার ছেলের।

পরবর্তী চিকিৎসা ধাপ নিয়ে জয় গ্লিটজকে বলেন, “লন্ডনে পৌঁছানোর পর ১৯ অগাস্ট মস্তিষ্কের পুনরায় স্ক্যান করা হবে। বিমান ভ্রমণের ধকল ও প্লেনের এয়ার প্রেসারের কারণে মস্তিষ্কে যে চাপ তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসকরা স্ক্যানের আগে অন্তত এক সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। ১৯ অগাস্টের স্ক্যান রিপোর্ট পর্যালোচনার পরই পরবর্তী চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন লন্ডনের চিকিৎসকেরা।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যেই বাবার রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির দীর্ঘ প্রোটোকল সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমারটির সুনির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য ও মিউটেশন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ‘ইমিউনোথেরাপি’ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে মূলত টিউমারের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালানো হয়।”

মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যে লন্ডনে মেয়ের বাসায় থাকছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দুই ধাপে চলেছে কেমোথেরাপি।

তবে টিউমারটির অবস্থান ‘মস্তিষ্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুসংযোগে’ হওয়ায় চিকিৎসকেরা তা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া করতে যায়নি বলে জানিয়েছেন জয়।

“পুরো টিউমার কাটতে গেলে বাকশক্তি হারানো বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার মত বড় ঝুঁকির আশঙ্কা ছিল। পরবর্তীতে বায়োপসি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে তিনি ব্রেইন ক্যানসারে আক্রান্ত।

“অস্ত্রোপচারের পর তাকে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় কেমোথেরাপি ও ওারল থেরাপি নিতে হয়েছে।”

তবে স্বস্তির বিষয় হল সেখানকারটা চিকিৎসকরা বলেছেন, দীর্ঘ চিকিৎসার পর ক্যানসার নতুন করে শরীরে ছড়ায়নি এবং অস্ত্রোপচারের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক বলে জানিয়েছে জয়।

এখন দিনগুলো কেমন যায় জানতে চাইলে জয় বলেন, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার কারণে অভিনেতার শারীরিক দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবে গুছিয়ে কথা বলতে কিছুটা বাধা অনুভব করছেন।

‘বাবা সবার সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়েছে’

ঢাকায় ফেরার পর এরপর ইলিয়াস কাঞ্চনের পুরনো সহকর্মীদের বেশ কয়েকজন তাকে দেখতে যান। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবনম, নায়ক আলমগীর, রোজিনা, কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, গুলশান আরা আক্তার চম্পা, মিশা সওদাগরসহ আরও অনেকে তার গুলশানের বাসায ভিড় করেন।

তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন অভিনেতা, একসঙ্গে বসে খেয়েছেন, ছবিও তুলেছেন। গানও গেয়ে শুনিয়েছেন। আবার কাউকে কাউকে দেখেন আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের দেখার পর ইলিয়াস কাঞ্চনের অনুভূতি কেমন ছিল প্রশ্নে জয় বলেন, “বাবাকে সবাই দেখতে এসেছেন, উনাকে সবাই ভালোবাসেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেও সবাইকে পেয়ে তিনি বেশ ভালো, আনন্দময় সময় কাটিয়েছেন।”

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

দেশে ফিরে এই অল্প সময়ের মধ্যেও তিনি এটি নিয়ে কাজ করেছেন জানিয়ে ছেলে জয় বলেন, “শৈশব থেকেই বাবাকে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি। সব সময় তিনি চেয়েছেন যেন আমরা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বমানের আপডেট থাকি এবং দেশের মানুষকে সচেতন করতে পারি। তিনি অসুস্থ হওয়ার পরও নিশ্চিত করেছেন যেন এই সংগঠন থেমে না থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “বাবা সব সময় বলতেন, নিরাপদ সড়ক গড়ার আন্দোলন কেবল একজনের ওপর নির্ভর করে হতে পারে না। এটি দেশের ১৭ কোটি মানুষের দায়িত্ব। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকলেও আমরা তার এই সামাজিক আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

বাবার সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন জয়।

প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা, যার শুরুটা হয় ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: